শিরোনাম
রবি. ফেব্রু ১৫, ২০২৬

‘রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতীকে রাজনীতির বাইরে রাখুন’, শান্তি ফেরানোর আবেদনে চিঠি বাংলার বুদ্ধিজীবীদের

কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে যা মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশ্রম হিসেবে পরিচিত। সেখানেই দেওয়াল তোলাকে কেন্দ্র করে ভাংচুর হয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। এবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীরা। স্বাভাবিকত্ব ফেরানোর আবেদন জানিয়ে বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের ২৬ জন ব্যাক্তিত্ব একটি খোলা চিঠি স্বাক্ষর করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশ্রম রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শান্তিনিকেতনের বহুচর্চিত ঐতিহ্য এবং বিশ্বভারতীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি ধ্বংসের পথে। এইরকম দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আমরা বিরক্ত এবং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের যে ২৬ জন ব্যাক্তিত্ব এই খোলা চিঠিতে সই করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ, পরিচালক বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত, তরুন মজুমদর, অনীক দত্ত, নাট্যব্যাক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, দেবশঙ্কর হালদার, মনোজ মিত্র, চন্দন সেন, কৌশিক সেন এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব। চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সত্ত্বর শান্তি ফেরানোর আবেদন জানানো হয়েছে।

এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যে কোনও রাজনৈতিক দলের দিকে আঙুল তুলে দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হোক আমরা চাই না। একইভাবে আমরা কোনও পক্ষকে সমর্থনও করছি না। কেউ হয়ত যুক্ত ছিল এমনও হতে পারে’।

বাঙালির আবগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বভারতী। একসঙ্গে ভালো ভাবনা এবং উন্মুক্ততার অভ্যাস একমাত্র উপায় যা এখানকার পবিত্রতা বজায় রাখতে পারে। পক্ষপাতিত্ব না করে ও স্পর্শকাতরতা বুঝে বর্তমান পরিস্থিতি নিষ্পত্তি হোক বলেই আবেদন জানিয়েছেন বুদ্ধিজীবীরা।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালে স্থাপণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেখানেই সপ্তাহের শুরুতে কুত্‍সিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পৌষমেলা প্রাঙ্গণে দেওয়াল তোলাকে কেন্দ্র করে। সোমবার বিশালসংখ্যক মানুষ ভাংচুর করেছে সম্পত্তি।

অভিযোগ তৃণমূল বিধায়কের ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটেছে। বুধবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই তদন্তের দাবি জানানও হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *