সামশেরগঞ্জ: নদী ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে। ধানঘড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি। এলাকার বেশ কিছু বাড়িও হুড়মুড়িয়ে নদীতে ভেঙে পড়েছে বলে জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। প্রাণে বাঁচতে নদীর পাড় থেকে সরে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বহু পরিবার। ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সামশেরগঞ্জের ধানঘড়া গ্রামে করোনা আবহেই চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে নদী-ভাঙন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চলতি বছরের শুরু থেকেই নদী-ভাঙন চলছে। প্রশাসনকে বহুবার ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ, সব জেনেও ভাঙন মোকাবিলায় প্রশাসনিকস্তর থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের গ্রামে নদী পাড় বারাবর ভাঙন শুরু হয়। নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে প্রায় ৬০ বিঘা চাষের জমি। বেশ কয়েকটি বাড়িও ভেঙে পড়েছে নদীতে। আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বহু পরিবার।
ইতিমধ্যেই এলাকার বেশ কিছু পরিবার অন্যত্র আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে আবারও কাছেই উঁচু জায়গায় রাস্তার ধারে গিয়ে ত্রিপল খাটিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত ভাঙনের জেরে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে চলে আসা পরিবারগুলির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। ঘর ছেড়ে আসা পরিবারগুলিকে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফে খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
এলাকার নদী-ভাঙন রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মহলে আবেদন জানানো হয়েছে বলে পঞ্চায়েতের তরফে জানানো হয়েছে।

