পাঁচ বছর বয়সে ভিনদেশে পাড়ি দিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছিলেন। জানতেন না ইংরেজি, বুঝতেন না কিউইদের চালচলন। বাংলাদেশের মায়া বুকে নিয়ে রীতিমতো সংখ্যালঘু জীবনযাপন করে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে বেড়ে ওঠা সেই আবিদ রহমান এখন ছোটখাটো তারকা।
অভিবাসী জীবনের দুঃখ নিয়ে তার তৈরি প্রামাণ্য-সিরিজ দেশটির টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে।
২৭ বছর বয়সী আবিদকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রভাবশালী গণমাধ্যম স্টাফের সানডে ম্যাগাজিনে রবিবার বিশেষ ফিচার প্রকাশ করা হয়েছে। চার্টার্ড হিসাবরক্ষক এই তরুণ লকডাউনের সময় ‘৮০ ডিফারেন্ট ওয়েজ’ নামের একটি অ্যালবাম করেছেন। স্ট্রিমিং সার্ভিস স্পটিফাইতে এটি আসবে ২৮ আগস্ট। তার আগে সামনের বুধবার থেকেই দ্য আউটলায়ারস সিরিজ প্রচারিত হবে মাউরি টেলিভিশনে।
১৭ বছর বয়স থেকে গান-কবিতা লেখা শুরু করেন আবিদ। ২০১৪ সালে ওয়েলিংটনের একটি শোতে আন্তর্জাতিকমানের শিল্পীদের সঙ্গে প্রথম গান করেন।
আবিদের শেষ অ্যালবামে বাংলাদেশের প্রতি তার গভীর টান ফুটে উঠেছে। অ্যালবাম এবং টিভি সিরিজের জন্য গত বছর তিনবার দেশে আসেন।
‘যতবার দেশে যাই, একটা টান অনুভব করি। দেশের মানুষ, গল্প এবং জীবনের সঙ্গে আমার একটা সংযোগ আছে,’ বসতভিটা ছেড়ে দূরদেশে থাকা আবিদ ম্যাগাজিনটিকে বলেন, ‘ওই মুহূর্তগুলো কেন্দ্র করে অনেক গান গড়ে উঠেছে।’
আবিদ তার অ্যালবামে পূর্ব থেকে পশ্চিমের মানুষের একটা মিশ্রণ ঘটাতে চেয়েছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার টোনে যারা কথা বলে আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছি। এই মানুষগুলো মূলধারার মিউজিকে প্রায়ই থাকে না। ওয়েলিংটনের জীবনের সঙ্গে তাদের গল্প মেশানোর সুযোগ এটি।’
নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বড় হওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি তুলে ধরেছেন দ্য আউটলায়ারসে। সেইসব দিনের কথা স্মরণ করে বললেন, ‘অভিবাসী কিংবা একটু আলাদা হওয়ায় আমি বিচ্ছিন্ন অংশের (আউটলায়ার) মতো ছিলাম। কোথাও ফিট হতাম না।’
আবিদ তার দুঃখের কথা বলতে, সেই কষ্টের দিনগুলো ভুলতে গানকে সঙ্গী করেন, ‘আমার জীবনে যা কিছু একটু ভালো করেছি তা এই মিউজিক। এই একটা জিনিসই আমাকে সামনে জায়গা দিয়েছে। আমার ওপর আলো ফেলেছে।’
আবিদ জানালেন যে মানুষগুলো এক সময় তাকে সংখ্যালঘু ভাবত এখন তারাই বলেন, ‘হেই, এই ছেলেটা সত্যি র্যাপ পারে!’

