সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের মতো আর কোনো ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ
করেছে সংসদীয় কমিটি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এদিকে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে সংসদসীয় কমিটিকে বলা হয়েছে সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ড অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা কোনোক্রমেই সঠিক হয়নি। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কক্সাবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত সিনহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে একাধিক সদস্য আলোচনা করেন। কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকু’র সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মো. হাবিবুর রহমান, সামছুল আলম দুদু, মো. ফরিদুল হক খান ও পীর ফজলুর রহমান অংশগ্রহণ করেন। সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ড নিয়ে কমিটিতে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, হ্যাঁ আলোচনা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে, তদন্তাধীন মামলা নিয়ে বেশি আলোচনা হয় নাই।
আমাদের প্রস্তাব সঠিক বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। তিনি বলেন, যেখানেই ত্রুটি আছে সেখানেই নজরদারি বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। নজরদারি বাড়ানো দরকার যাতে আর কোনো সময় এ রকম ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে। অপ্রীতিকর অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সমস্ত অর্জন মেঘাচ্ছন্ন হয়। সেজন্য বাহিনীতে তৎপরতা থাকা দরকার। এজন্য প্রিভেনটিভ তদারকি থাকা দরকার। কমিটির সদস্যদের আলোচনার প্রেক্ষিতে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, এটা তদন্তাধীন মামলা। এ নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য দেয়া সঠিক হবে না। তাতে তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে। তদন্ত মোতাবেক অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যারাই এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। বৈঠকে পুলিশের আইজি এডমিন বলেছেন, এটা অনভিপ্রেত অনাকাঙ্ক্ষিত এটা কোনোক্রমেই সঠিক হয় নাই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মদত দেয় না। আমাদের সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাসী না। অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে বৈধ অস্ত্র মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন ব্যক্তিরা সঠিকভাবে প্রয়োগ করবে- এটা সংবিধান বলে, রাষ্ট্র বলে। এদিকে সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালো রাত্রিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যসহ অন্যান্য যারা শহীদ হয়েছেন, ২১শে আগস্টে শাহাদত বরণকারী এবং করোনা মহামারিতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। এ ছাড়া চলমান কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ ও অধীনস্থ অন্যান্য সংস্থাসমূহের গৃহীত সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য কার্যক্রমের আলোকে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের আবাসিক সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট জোনে/ক্যাম্পাসে প্রয়োজনে বহুতল ভবন নির্মাণ করে আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে দেশব্যাপী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরো গতিশীল ও জোরদার করার লক্ষ্যে বিএসটিআই-এর আদলে ডোপটেস্ট/বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য একটি পৃথক প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়। মাদক সংক্রান্ত মামলার আসামিগণ যাতে ফাঁকফোকড় দিয়ে বের হতে না পারে সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়। প্রতিটি উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পূর্বে এবং চূড়ান্ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ডোপটেস্ট/বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে ইলেকট্রনিক্স/প্রিন্ট মিডিয়ায় মাদকের বিরদ্ধে প্রচার/প্রচারণা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান, দুই বিভাগের অধীনস্থ সংস্থা প্রধানগণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

