শিরোনাম
শুক্র. জানু ২, ২০২৬

সত্যজিতের পথের পাঁচালি রঙিন করায় প্রবল বিতর্ক

কলকাতা প্রতিনিধি: মাত্র আড়াই মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ। লকডাউনের অবসরে পরীক্ষা করতে গিয়ে সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালির কয়েকটি দৃশ্যকে রঙিন করেছেন ওয়াশিংটনের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনিকেত বেরা। পুরোটাই করেছেন তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির সাহায্যে। সেই পরীক্ষামূলক কাজকে ইউটিউবে দেয়ামাত্র শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক। অর্ন্তজাল দুনিয়ায় ঝড় উঠেছে। সেই ঝড় এসে পৌঁছেছে কলকাতার চলচ্চিত্র মহলেও। অবশ্য পুরনো ছবিকে রঙিন করার চেষ্টা আগেও হয়েছে। মুঘল এ আজমের মতো চলচ্চিত্রও রঙিন করে পেশ করা হয়েছে।

তবে এবারের কাজটি যেহেতু বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের অবিস্মরণীয় সৃষ্টিকে নিয়ে তাই এত সোরগোল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন চলচ্চিত্র অনুরাগীদের অনেকে। যিনি এই পরীক্ষাটি করেছেন সেই অধ্যাপক যতই বলুন না কেন তিনি নিছক পরীক্ষা হিসেবেই এই সাহসী কাজটি করেছেন, অনেকেই তাকে সমর্থন করেন নি। সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ রায় পথের পাঁচালি রঙিন করা প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে বলেছেন, ক্লাসিক কাজ নিয়ে কোনও কাটাছেঁড়া না করাই উচিত। তিনি অধ্যাপক বেরার কাজকে সমর্থন করছেন না জানিয়ে বলেছেন, পরিচালক যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে অনুমতি নিয়ে কাজটি করা যেত। কিন্তু তিনি যখন বেঁচে নেই তখন এই ধরণের কাজ না করাই বাঞ্ছনীয়। তবে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের পরীক্ষ নীরিক্ষায় আপত্তি না থাকলেও তিনি এ ক্ষেত্রে জানিয়েছেন, যে পদ্ধতিতে রঙের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে তাতে দৃশ্যগুলির গভীরতা হারিয়েছে। তিনি মনে করেন, মূল ছবির পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই কাজ হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে মনে হয়েছে, সত্যজিৎ রায় ও ডিওপি সুব্রত মিত্রের ভিশনের সংঘাত হয়েছে। সুব্রত মিত্রের দীর্ঘদিনের সহকারী সৌমেন্দু রায় স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন পথের পাঁচালিকে রঙিন করা যায় না। তিনি যে এই কাজের জন্য ক্ষুব্ধ সেটাও জানিয়েছেন। এছাড়াও আরও অনেকেই অধ্যাপক বেরার পরীক্ষা নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *