শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: ২৯ আগস্ট কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪ তম মহাপ্রয়াণ দিবস। করোনা অতিমারীর কারণে বিশেষ এই দিনটিতে বালুরঘাটের আদর্শস্কুলপাড়ার কাজী নজরুল ইসলামের মূর্তিতে দুপুর পর্যন্ত কেউ শ্রদ্ধা নিবেদন করেননি। করোনার আতঙ্কে কবিকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি সংস্কৃতির শহরের অনেকেই বেমালুম ভুলে গেলেও ভুলতে পারেননি সাংবাদিকরা।
দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্টস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিকরা কবির গলায় মালা পড়িয়ে মহাপ্রয়াণ দিবসে তাঁকে প্রণাম জানালেন। ২০১৬ সালে তৎকালীন বালুরঘাট পুরসভা স্থানীয় ললিতমোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্রোহী কবি মূর্তি স্থাপন করেছিল। গতবছর পর্যন্ত পুরসভা ও অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে কবির জন্ম ও মৃত্যু দিবসে সেই মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে দেখা গেছে।
কিন্তু এবছর তাঁর মৃত্যু দিবসে দুপুর অবধি উল্টো ছবিই ধরা পড়লো। অভিযোগ পুরসভা বা অন্য কেউ সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেননি। সবাই এড়িয়ে বা ভুলে গেলেও তাঁকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ব্যাপারটি কিন্তু এড়িয়ে যায়নি দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্ট ক্লাবের সদস্য সাংবাদিকরা।
করোনা আবহের মধ্যেও তাঁরা ললিতমোহন আদৰ্শ স্কুলের সামনে গিয়ে কাজীনজরুলের মূর্তিতে মাল্যদান ও পুস্পার্ঘ নিবেদন করলেন। তাঁরা প্রাণের কবি নজরুল ইসলামের সেই মূর্তিতে মাল্যদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন।
শনিবার জার্নালিস্টস ক্লাবে সদস্য বিশ্বদীপ নন্দী ও অনুপ সান্যাল বলেন, প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ মহাপ্রয়াণ দিবস। করোনার আতঙ্ক যতই ভয়ংকর হউক না কেন কবির সৃষ্টি ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা কখনোই ভুলবার নয়। করোনার আবহে দৈনিকই খবরের কাজে তাঁদের বাইরে বেরোতে হয়।
খবরের কাজের শত ব্যস্ততার মাঝেও তাঁরা আদর্শস্কুল পাড়ায় গিয়ে কবি নজরুলের গলায় মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছেন। বালুরঘাট পুরসভার প্রাক্তন পুরপিতা রাজেন শীল বলেন যে, বিশেষ এই দিনটাতে কবিকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা উচিত ছিল। ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন বিষয়টি অবশ্যই খোঁজ নেবেন।

