স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: সাড়ম্বরে পালিত হল জঙ্গলমহলের মূলবাসীদের করম পরব। শনিবার ঝাড়গ্রাম শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস লাগোয়া মধুবন এলাকায় ৩৫ তম বর্ষের করম পুজো অনুষ্ঠিত হল। এই পুজোর ‘মোড়ল’ হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাজকুমার মাহাতো। রাজকুমারবাবুর বাবা প্রয়াত গণেশ মাহাতো ১৯৮৫ সালে শহরের একমাত্র করম পুজোটি শুরু করেছিলেন।
এখন পুজো পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন আইনজীবী দীপক মাহাতোর মতো বিশিষ্টজনেরা। শনিবার সন্ধ্যায় করম থানে পুজোর ‘লায়া’ (পূজারী) রাজেশ মাহাতো চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী, করম গাছকে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ‘জাগান’। এরপর সেই গাছের পাতা সমেত ডাল কেটে ঢোল-মাদল বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে পুজোর স্থলে নিয়ে আসা হয়।
সমবেত করমগীতির সুরমূর্চ্ছনায় পুজোর বেদিতে করম ডাল স্থাপন করেন ‘লায়া’। আগে লায়ার দায়িত্ব পালন করতেন রাজেশের বাবা সুশান্ত মাহাতো। এখন প্রতিবছর সেই দায়িত্ব পালন করেন রাজেশ। এদিন সন্ধ্যায় করম গাছের ডাল ঘিরে গোল হয়ে বসেছিল বালক-বালিকারা।
মূলত, বালক-বালিকারাই এই পুজোর ব্রতী। করম দেবতার উদ্দেশে সিঁদুর, চালগুঁড়ি, আমলকি গাছের ডালপালা ও কেয়া পাতার নৈবেদ্য ও শশা গাছের পাতার উপর গোটা শশা রেখে নিবেদন করা হয়। ডালায় ছিল অঙ্কুরিত গম, ছোলা, ভুট্টা, সর্ষে ও বিভিন্ন ডাল শস্য।
পুজোর পরে লোকনৃত্য ও সঙ্গীতে মেতে ওঠেন মূলবাসীরা। এদিন করম পুজোয় এসেছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শুভ্রা মাহাতো, গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক চূড়ামণি মাহাতো, শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো প্রমুখ।
জঙ্গলমহলের গ্রামগঞ্জে মূলত মূলবাসী কুড়মি সম্প্রদায় এ দিন মেতে ওঠেন উৎসবে। সেই সঙ্গে ভূমিজ, বাগাল, কামার, কুমোর সম্প্রদায়ের মানুষজনও উৎসবে সামিল হন। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর দিনটিকে স্থানীয়রা বলেন পার্শ্বএকাদশী। এই তিথিতে করম গাছের ডালকে দেবজ্ঞানে পুজো করেন জঙ্গলমহলের মূলবাসীরা। শস্য, সমৃদ্ধি ও সুসন্তনের কামনায় এই পুজো হয়।

