শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

স্বমহিমায় ‘জনতার ডাক্তার’, ফুয়াদের হাসপাতালে আরও ১ মাস পর্যন্ত ৫০টাকায় ডায়ালিসিস!

হাইলাইটস

  • হাসপাতাল ভরতি থাকাকালীনই অবস্থা সংকটজনক হয়ে উঠেছিল বাম নেতা তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক ফুয়াদ হালিমের।
  • ফের জানিয়ে দিলেন, তাঁর ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’ হাসপাতালে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৫০ টাকায় চলবে এই ডায়ালিসিস পরিষেবা।
  • ২৬ মার্চ থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত মোট ৪০৩৫ জন ৫০ টাকায় ডায়ালিসিস করেছেন।

কলকাতা: গোটা লকডাউন পর্বে শ্বাস ফেলারও ফুরসৎ ছিল না তাঁর। মানুষের সেবা করতে-করতে তিনি নিজেও আক্রান্ত হয়েছিলেন মারণ ভাইরাসে। হাসপাতাল ভরতি থাকাকালীনই অবস্থা সংকটজনক হয়ে উঠেছিল বাম নেতা তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক ফুয়াদ হালিমের। যদিও সেখান থেকেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘৩১ অগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য সংকল্প হাসপাতালে ৫০ টাকায় ডায়ালিসিস করা হবে।’ তখন রীতিমতো জীবন-যুদ্ধ লড়ছেন ফুয়াদ। কিন্তু তাতেও দায়িত্ব থামেনি। এবার করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরে আবার পুরোদমে জনসেবায় লেগে পড়েছেন তিনি। আর এরই মধ্যে ফের জানিয়ে দিলেন, তাঁর ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’ হাসপাতালে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৫০ টাকায় চলবে এই ডায়ালিসিস পরিষেবা।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘কলকাতা স্বাস্থ্য সংকল্প হাসপাতালে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডায়ালিসস হবে মাত্র ৫০ টাকায়।’ সেইসঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, ২৬ মার্চ থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত মোট ৪০৩৫ জন ৫০ টাকায় ডায়ালিসিস করেছেন। হাসপাতালের বেডে শুয়েও ফুয়াদ গত মাসে লিখেছিলেন, ‘৫০ টাকাতেই এখন ডায়ালিসিস চলবে কলকাতার স্বাস্থ্য সংকল্প হাসপাতালে। অগস্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত গরিব মানুষের জন্যে ৫০ টাকায় ডায়ালিসিস হবে।’ তিনি আরও জানিয়েছিলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩১৫৪ জন মানুষের ডায়ালিসিস হয়েছে মাত্র ৫০ টাকায়।

গোটা লকডাউনে তিনি গরিব মানুষের চিকিৎসায় উদ্যোগী ছিলেন। অধিকাংশ মানুষ গৃহবন্দি থাকলেও ফুয়াদ ডাক্তারের কাজ যেন সেই সময়ই বেড়ে গিয়েছিল কয়েকগুণ। অনেক বছর আগেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের সাহায্যে বাড়ির পাশেই গড়ে তুলেছিলেন ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’ হাসপাতাল। লকডাউনের সময় সেই ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’ হাসপাতাল হয়ে উঠেছে গরিবের সুরাহার ঠিকানা। গোটা লকডাউনে রাজ্যে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা নিয়ে যখন নাজেহাল হচ্ছিল মানুষ, ফুয়াদ হালিমের এই হাসপাতালে তখন হাজার-হাজার গরিব মানুষের ভিড়। সমস্যা নিয়ে আসা কাউকে ফিরে যেতে হয়নি বিনা চিকিৎসায়।

এরই মধ্যে জুলাই মাসে করোনা আক্রান্ত হন তিনি। দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভরতি ছিলেন বেশ কিছুদিন। অনেক সময়ই তাঁর শারীরিক অবস্থা রীতিমতো জটিল হয়ে উঠছিল। শেষমেশ করোনাকে হারিয়ে ২ অগস্ট বাড়ি ফেরেন ফুয়াদ হালিম। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর তাঁকে ছুটি দেয় বেসরকারি হাসপাতাল। আর বাড়ি ফিরে কিছুদিন প্রয়োজনীয় বিশ্রামটুকু নিয়েই আবার নিজের কাজে লেগে পড়েছেন ‘ডাক্তার বাবু’। সূত্র: এই সময়

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *