রক্ষকের ভক্ষক হয়ে ওঠার ঘটনা নতুন কিছু নয়। আগেও ঘটেছে একাধিক বার। এ বার ওডিশায় গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ল তিন পুলিশকর্মীর নাম। ওই তিন পুলিশকর্মীর সঙ্গে আরও চার জন মিলে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে এক নাবালিকাকে। অভিযোগ, কোভিড-১৯ লকডাউন চলাকালীন ওই কিশোরীকে সাত জনে মিলে ধর্ষণ করে। থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই ওডিশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের এই ঘটনাটি জনসমক্ষে আসে। দিন কয়েক আগে মহিলা পুলিশ থানায় গিয়ে সাত জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন নিগৃহীতার মা। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
ভুবনেশ্বরের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) উমাশংকর দাশ শনিবার জানান, ৩০ অগস্ট মহিলা পুলিশ থানায় একটি গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। নিগৃহীতা কিশোরীর মা এফআইআর দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইপিসি ছাড়াও পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
লিখিতে অভিযোগে মহিলা উল্লেখ করেন, ওডিশায় লকডাউন চলাকালীন মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে তাঁর মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে তিনি চার জনের নাম করেন। এর মধ্যে দু-জন পুলিশকর্মী। বাকি দু’জন বিদ্যুতিন মাধ্যমে কর্মরত। পরে, নিগৃহীতাকে জিগ্যাসাবাদের সময় সে আরও এক পুলিশকর্মী ও তার দুই সঙ্গীর কথা পুলিশকে জানায় । তার প্রেক্ষিতে মোট সাত জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে।
মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও অভিযোগ জানাতে কেন অগস্ট গড়িয়ে গেল? কেন আরও আগে তাঁরা থানায় অভিযোগ জানাতে আসেননি? কিশোরীর মা জানান, তিনি আগে কিছু জানতে পারেননি। মেয়ে তাঁকে ঘটনার কথা বলেনি। ওকে ভয় দেখিয়েছিল অভিযুক্তরা। সেই ভয়েই ও যৌন হেনস্থার কথা চেপে গিয়েছিল। কিন্তু, কিছু দিন ধরে মেয়ের আচরণে পরিবর্তন দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। তখনই ধর্ষণের ঘটনা জানতে পারেন। তার পরেই মহিলা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
ডিসিপি জানিয়েছেন, এই গণধর্ষণ মামলার তদন্তভার ওডিশা পুলিশের বিশেষ ইউনিট ক্রাইম এগেনস্ট উওমেন-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারাই তদন্ত শুরু করেছে। তবে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকেও এখনও পর্যন্ত ধরা যায়নি। থানায় এফআইআর দায়েরের পর থেকেই তারা ফেরার। পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশিতে নেমেছে। নাবালিকার মেডিক্যাল টেস্টও করানো হয়েছে। রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ। সূত্র: এই সময়

