বিহারে বিধানসভা ভোট আসন্ন। তার আগে লালু প্রসাদের আরজেডি থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন বর্ষীয়াণ নেতা রঘুবংশ প্রসাদ সিংহ। নয়াদিল্লির এইমসের আইসিইউ-তে ভর্তি রয়েছেন রঘুবংশ। সেই রোগশয্যা থেকেই কাঁপা কাঁপা হাতে ডায়েরির পাতা ছিড়ে রঘুবংশ লিখেছেন, ‘৩২ বছর হয়ে গেল। কর্পুরি ঠাকুরের মৃত্যুর পর থেকে আপনার পাশে রয়েছি। আর নয়!’ বিহারে সমাজবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন কর্পুরি ঠাকুর। লালু প্রসাদ, রঘুবংশ, নীতীশ কুমার এঁরা সবাই তাঁরই অনুগামী ছিলেন। কর্পুরি ঠাকুরের মৃত্যুর পরই পৃথক দল গঠন করেন লালু প্রসাদ। বাঙালি পাঠকদেরই অনেকেরই আগ্রহ হতে পারে, কে এই রঘুবংশ প্রসাদ সিংহ? আদতে অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন রঘুবংশ। তা নিয়েই তাঁর গবেষণা। কিন্তু তারই পাশাপাশি ছাত্র জীবন থেকেই সমাজবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি ছিলেন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। এর মধ্যে পাঁচ বার বিহার বিধানসভায় বিধায়ক ছিলেন রঘুবংশ। তা ছাড়া রাজ্যে বিদ্যুত্ মন্ত্রী ও কেন্দ্রে মনমোহন সিংহ জমানায় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী হয়েছিলেন এই লোহিয়া পন্থী নেতা।
বিহারের রাজ্য রাজনীতিতে রঘুবংশ অত্যন্ত সত্ ও একনিষ্ঠ রাজনীতিক বলেই পরিচিত। বরাবর সাদা মাটা জীবনযাপন করেছেন। তাঁর সরল জীবনযাপন নিয়ে অনেক গল্প কাহিনীও রয়েছে বিহারে। মন্ত্রী হওয়ার পরও বাড়িতে ছেলেকে নিয়ে নিয়মিত পড়াতে বসতেন রঘুবংশ। একবার নাকি ছেলে অঙ্ক ভুল করায় বেত হাতে নিয়ে ছেলেকে ধাওয়া করেছিলেন তিনি। তখন রাজ্যে মন্ত্রী রঘুবংশ। লোকে দেখে, মন্ত্রীমশাই ছেলের পিছনে রাস্তা দিয়ে বেত হাতে ছুটছেন। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকে রঘুবংশের জমানাতেই ঐতিহাসিক একশ দিনের কাজ সংক্রান্ত আইন পাশ হয়। জমি অধিগ্রহণ আইনের সংশোধনেও তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আরও মজার হল, রাজ্যওয়াড়ি গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প খাতে অনুদান ও তার রূপায়ণের পরিসংখ্যান রঘুবংশ মুখে মুখে বলতে পারতেন। তাতে তাজ্জব বনে যেতেন আমলারা। রঘুবংশ কেন দল ছাড়তে চাইছেন? পশুখাদ্য মামলায় লালু প্রসাদ এখন রাঁচির জেলে রয়েছেন। তাঁর ছেলে তেজস্বী যাদব যে ভাবে পার্টি চালাচ্ছেন তাতে অনেক দিন ধরেই অসন্তুষ্ট রঘুবংশ। ২০১৪ সালে যে রমা সিংহ রঘুবংশকে বৈশালী লোকসভা আসনে পরাস্ত করেছেন এখন তাঁকেও দলে টেনেছেন তেজস্বী। তাতে আরও অপমানিত হয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তার পরই আজ ইস্তফা পত্র পাঠিয়েছেন তিনি। লালু প্রসাদের কী বক্তব্য? বিহার ভোটের আগে রঘুবংশের এই ইস্তফা পত্রকে ঘিরে বৃহস্পতিবার আন্দোলিত হয়ে গিয়েছে বিহারের রাজনীতি। লালু প্রসাদ যাদব তাঁর উদ্দেশে লিখেছেন, ‘রঘুবংশবাবু আপনার ইস্তফাপত্র গ্রহণ করছি না। আপনাকে কোথাও যেতে দেব না আমি। আমাদের সঙ্গেই থাকবেন’। লালু আরও লিখেছেন, ‘গত চল্লিশ বছর ধরে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত আমরা একসঙ্গে নিয়েছি। আপনারি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন। তার পর আমরা বসে কথা বলব’। সূত্র: দ্য ওয়াল ব্যুরো

