শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

সুদীর্ঘ ৯ পাতার চিঠিতে রাজ্যপালকে আইনের পাঠ পড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

প্রত্যাঘাত যে আসবে সেটা জানাই ছিল। যেটা বোঝা যায়নি সেটা হল চিঠির ছত্রে ছত্রে নানা মামলার রায় এবং সেই সব মামলায় জড়িত হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মন্তব্য ও পর্যবেক্ষন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে বাংলার বুকে রাজ্যপাল বনাম রাজ্য সরকারের সংঘাতে। বোঝা যায়নি বি আর আম্বেদকরকে তুলে এনে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে মনে করিয়ে দেবেন যে তিনি নিয়মসর্বস্ব শাসক মাত্র। সংবিধানে তাঁকে কাজ করতে বলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য মন্ত্রীসভার কথা মেনেই। এটাও জানা ছিল না যে মুখ্যমন্ত্রী পত্রাঘাতে রাজ্যপালকে এটা মনে করিয়ে দেবেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে আর রাজভবনে বাসিন্দা হয়ে যিনি এসেছেন তিনি কেন্দ্র সরকারের মনোনীত রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি মাত্র। সব মিলিয়ে রাজ্য সরকার বনাম রাজ্যপাল সংঘাত নয়া শিখর দেখলো।

রাজ্য সরকারকে নিয়মিত আক্রমণ করা বাংলার রাজ্যপালের প্রায় নিত্যদিনের কাজ হয়ে উঠেছে। বর্ষায় বৃষ্টি হোক বা না হোক রাজ্যপালের ট্যুইট বৃষ্টির বিরাম নেই এই বাংলায়। আর সেই সব ট্যুইটে তিনি কখনও আক্রমণ করছেন মুখ্যমন্ত্রীকে, কখনও রাজ্যের মন্ত্রীদের, কখনও পুলিশকে আবার কখনও শাসকদলের নেতাদেরকেও। কার্যত সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে চলার ধার ধারছেন না তিনি। কখনও কখনও সব সীমা ছাড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে অন্ত্যন্ত কটুবাক্যে ও শব্দে আক্রমণ হানছেন তিনি। তাঁর এই সব কুকর্ম কার্যত রাজ্যে সাংবিধানিক সংকটও তৈরি করে দিচ্ছে। এমনকি রাজ্য সরকারের কথা মেনে তিনি সব সময় কাজও করতে চাইছেন না। এহেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে এবার সুদীর্ঘ ৯ পাতার এক চিঠি পাঠিয়ে আইনের পাঠ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যে সম্প্রতি ৬জন তালিবান জঙ্গি ধরা পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে। একই সঙ্গে কেরল থেকেও ৩জন তালিবান জঙ্গি ধরা পড়ে যাদের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলাতে। সেই ঘটনার পরে পরেই রাজ্যপাল রাজ্য পুলিশের উদ্দেশ্যে কটুবাক্যে ট্যুইটও করেন। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজিকে রাজভবনে তলব করেন। এটাও হানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেন ডিজি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। রাজ্যপালের এই ভূমিকা ভালো ভাবে নেয়নি নবান্ন। রাজ্য সরকারের বিনা অনুমতিতে রাজ্য পুলিশের ডিজিও পারেন না রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে। তাই তখনই বেশ বোঝা গিয়েছিল নবান্নের তরফেও ঠিক সময়ে জবাব আসবে। ২৫ তারিখের মধ্যে রাজ্যপালের সঙ্গে ডিজি দেখা করতে না এলেও বেশ কড়া ভাষায় লেখা মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি হাজির হল রাজভবনে। শুধু তাই নয় ছত্রে ছত্রে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নিয়মসর্বস্ব শাসক ব্যাতিত কিছুই নন। তাই ভালো এটাই হবে যেন তিনি সংবিধান মেনে রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নিজে ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত। তিনিও নির্বাচিত হয়েই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন। অথচ রাজ্যপাল সম্পূর্ণ মনোনীত পদ। তাই আইন মেনে সাংবিধানিক কাজ করা উচিত। প্রশাসনিক কাজে অযাচিতভাবে কোনও ভূমিকা নেওয়া মোটেই কাম্য নয়। সূত্র: এই মুহুর্তে

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *