শিরোনাম
মঙ্গল. এপ্রি ৭, ২০২৬

করোনা ভাইরাসের জেরে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে আসাম পর্যটনের, ডিসেম্বরের প্রথম থেকে পুণ্যধাম যাত্রার পরিকল্পনা, জানালেন জয়ন্তমল্ল

গুয়াহাটি: করোনা ভাইরাস এবং দীর্ঘদিন লকডাউনের ফলে অসমের পর্যটন শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অসম পর্যটনের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় সংকটের সময়। এতে সরকার বিপুল পরিমাণের রাজস্ব হারিয়েছে। ঠিক তেমনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন ট্যুর অপারেটর সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

অসম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের কনফারেন্স হল-এ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান নবদ্বীপ কলিতাকে সঙ্গে নিয়ে চেয়ারম্যান জয়ন্তমল্ল বরুয়া ওই কথাগুলি জানিয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসের হামলায় সমস্ত বিশ্ব আজ জর্জরিত। বিশ্বে করোনার প্রভাব কতদিন থাকবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। করোনা অতিমারি ও লকডাউনের প্রভাব অসমের পর্যটন ক্ষেত্রে ভীষণ ভাবে পড়েছে। চেয়ারম্যান জয়ন্তমল্ল বরুয়া জানান, করোনা সংক্রমণের জন্য বন্ধ পর্যটন ক্ষেত্রগুলি বর্তমানে খোলার প্রস্তুতি চলছে। আশা করা যাচ্ছে, এতে স্থানীয় অর্থ ব্যবস্থায় সাহায্য হবে।

এই সংবাদ সম্মেলনে জয়ন্তমল্ল বরুয়া বলেন, লকডাউনের জন্য সমগ্র বিশ্বের পর্যটন প্রভাবিত হয়েছে। বহু মানুষ লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। বর্তমানে পর্যটনশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পর্যটন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বেশ কয়েকটি প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। যেমন পর্যটন সঞ্জীবনী প্রকল্প, পর্যটন সারথী প্রকল্প, পুণ্যধামে যাত্রা প্রকল্প। এতে পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িতরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। তিনি জানান, পুণ্যধাম যাত্রা প্রকল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এবার অসমের বাইরে নয়, অসমের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখার ব্যবস্থা করবে পর্যটন দফতর। ডিসেম্বরের প্রথম থেকে পুণ্যধাম যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে যদি সবকিুছু ঠিকঠাক থাকে। এছাড়া সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজিরঙা, মানস ও পবিতারা অভয়ারণ্য পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানান বরুয়া।

বাঘজান সম্পর্কে জয়ন্তমল্ল বরুয়া বলেন, বাঘজানের অগ্নিকাণ্ডেও রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পর্যটন বিভাগ ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডে সাথে যুক্ত হয়ে ডিব্রু-সাইখোয়ার বৃহত্তর অঞ্চলের পরিকাঠামো তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে হোম স্টে, বাটারফ্লাই পার্ক, ফিশ অ্যাকোরিয়াম, অর্কিড গার্ডেন ইত্যাদি নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর সাথে বিভিন্ন জনজাতির ওয়েভিং সেন্টার, সেলিং পয়েন্টস ও কালচারাল মিউজিয়াম নির্মাণ করা হবে।

উল্লেখ্য, রবিবার চাঁদডুবিতে পালন করা হবে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এর সাথে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জয়ন্তমল্ল বরুয়া বলেন, গত বছর ৬০ লক্ষ দেশি পর্যটক এবং ৪২ হাজার বিদেশি পর্যটকের আগমন হয়েছিল অসমে। তিনি আরও জানান, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির পর পর্যটনের বিভিন্ন বিভাগে এক বৃহত্‍ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। অসমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপর পর্যটন বিভাগ এক মিনিটের ছোট ভিডিও তৈরি করবে যা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হবে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাব চলে গেলে পর্যটন ক্ষেত্র স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লেগেও যেতে পারে। কারণ করোনার প্রভাবে পৃথিবীর অনেক মানুষই বেকার হয়ে পড়েছেন। মানুষের সঞ্চয় কমে গেছে। ফলে জীবনযাত্রার মান কমেছে। তাই মানুষ আগের তুলনায় ভ্রমণ কম করবেন। তাছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে মানুষ ভ্রমণ পরিকল্পনা করবেন বলে মনে করেন বক্তা। এ সমস্ত কারণে করোনার প্রভাব শুধু ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হয়ে গেলেও পর্যটন ক্ষেত্র স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে, ধারণা অসম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান জয়ন্তমল্ল বরুয়া। দেবযানী / সমীপ

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *