করোনা সংক্রমণ বেড়েছে বাংলাদেশে। একে ডঙ্গির প্রকোপ, তার ওপরে কোভিড রোগীদের সংখ্যাও বেড়েছে। সে দেশের স্বাস্থ্য দফতরের ডিজি আবুল বাশার মহম্মদ খুরশিদ আলম বলেছেন, হাসপাতালে ভর্তি কোভিড রোগীদের ৯০ শতাংশের বেশি গ্রাম থেকে এসেছেন। এর অর্থ হল প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে সংক্রমণ বেড়েছে। এই খবরে উদ্বিগ্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। তৃতীয় ঢেউয়ের সতর্কতা জারি হয়েছে, সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এখনও কিছু জেলা ও প্রত্যন্ত গ্রামে সংক্রমণের হার বেশি। কোভিড বিধিও অনেক জায়গায় মানা হচ্ছে না বলে খবর সামনে এসেছে। বাংলাদেশের গ্রামে কোভিড ছড়ালে এ রাজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন বলছে, বাংলায় এখনও কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার ২ শতাংশের কাছাকাছিই আছে। বৃহস্পতিবারের হিসেবে সংক্রমণের হার ১.৭৩ শতাংশ। সূত্র বলছে, এখনও রাজ্যের বস্তি এলাকাগুলিতে কোভিড টিকাকরণের হার কম। সেসব জায়গায় কোভিড বিধিও মানা হচ্ছে না। এই ব্যাপারে জেলাশাসকদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। পুজোর মাসেই থাবা বসাতে পারে থার্ড ওয়েভ, ছোট্ট সোনাকে সুস্থ রাখতে কী কী করবেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রাণঘাতী রূপ দেখেছে গোটা দেশ। এ রাজ্যেও দ্বিতীয় ডেউয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছিল। রাজ্যে এখন কোভিড গ্রাফ নিম্নমুখী হলেও বিধিনিষেধের রাশ আলগা করতে চায় না রাজ্য সরকার। আর যেখানে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে নিয়মের বাঁধন আরও কড়া করার কথাই ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড পজিটিভিটি রেট যদি বাড়ে তাহলে সংক্রমণের ঢেউ প্রবলভাবে আছড়ে পড়বে। কোভিড পজিটিভিটি রেট মানে হল প্রতি দিন যে সংখ্যক কোভিড টেস্ট করা হয়, তার মধ্যে যত শতাংশের রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তাকেই ‘পজিটিভিটি রেট’ বা সংক্রমণের হার বলা হয়। অর্থাত্ প্রতিদিনে যত জন করোনা পরীক্ষা করাচ্ছে, তার মধ্যে প্রতি ১০০ জনে যতজনের টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসবে তাকেই বলা হবে পজিটিভিটি রেট। এখন এই পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার তখনই বাড়ে, যখন করোনা কোভিড টেস্ট ঠিকমতো করা হয় না, বা নমুনা পরীক্ষায় কোনও খামতি থাকে। যদি কোনও রাজ্যের সব জেলাতে ঠিকমতো পরিকল্পনা করে কোভিড টেস্ট না করা হয়, তাহলে বেশিরভাগ রোগীকেই শনাক্ত করা যাবে না। তাদের থেকে আবার সংক্রমণ বেশিজনের মধ্যে ছড়াবে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক জেলাতে এখনও মাস্ক-বিধি ঠিকভাবে মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাস্ক পরার হারে এখনও পিছিয়ে রাজ্যের কয়েকটি জেলা।
সূত্রের খবর, মাস্ক পরার হারে সবচেয়ে এগিয়ে দার্জিলিং ৮১.৫%, এরপরে দক্ষিণ দিনাজপুর ও আলিপুরদুয়ার যথাক্রমে ৭৪.৪% ও ৭২.৮%, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পংয়েও প্রায় ৬৮-৬৯%। এদিকে আমাদের কলকাতায় ৬২.৮%, হাওড়াতেও ৬০ শতাংশের মতো। কিন্তু উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, আসানসোল, বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, বর্ধমানে মাস্ক পরার হার খুব কম। সবচেয়ে কম উত্তর দিনাজপুরে ১৬.৮%, বাকিগুলিতে গড়ে ৩০-৪০ শতাংশের মতো। মাস্ক না পরার হার যেমন বেশি, তেমনি ঠিক মতো মাস্ক পরছেন না এমন লোকজনের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বেশিরভাগেরই মাস্ক কান থেকে ঝুলছে বা থুতনির নীচে নামানো। নাক-মুখ ঢাকেনি পুরোপুরি। সমীক্ষা বলছে, শহরগুলিতে মাস্ক পরছেন না এমন মানুষজনের সংখ্যা ৪৩ শতাংশের মতো, ঠিকমতো মাস্ক পরছেন না এমন মানুষজন ১৯ শতাংশ। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে, মাস্ক না পরার হার ৬০ শতাংশ, ঠিক মতো মাস্ক পরছেন না ১৪ শতাংশ। আরও চমকে দেওয়ার মতো ব্যাপার হল, জনবহুল এলাকা যেমন বাজার, শপিং মলে মাস্ক না পরার হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। তবে রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ আসার আগেই কড়া কোভিড গাইডলাইন মেনে চলার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাস্ক না পরলে, কোভিড বিধি না মানলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সূত্র: দ্য ওয়াল ব্যুরো

