শিরোনাম
বুধ. জানু ১৪, ২০২৬

আক্রান্তদের ভরতি করাতে বাধা, করোনা যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে থুতু

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সেবায় প্রাণপণ লড়াই জারি রাখা সত্ত্বেও তাঁদের হাতেই লাঞ্ছনা মেনে নিতে পারছেন না পশ্চিম জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. সংগীতা চক্রবর্তী৷ ফলে, করোনা যুদ্ধে সামনের সারির সৈনিকদের সাথে রোগীদের দুর্ব্যবহারে নিন্দার ঝড় উঠেছে ত্রিপুরায়৷ আগরতলায় সদ্যজাত শিশু সহ করোনা আক্রান্ত পাঁচ জন্মদাত্রী এবং এক গর্ভবতী মহিলাকে কোভিড কেয়ার সেন্টারে ভরতি করতে গিয়ে অন্য রোগীদের দুর্ব্যবহারে মর্মাহত হয়েছেন ডা. সংগীতা চক্রবর্তী৷

তাঁকে লক্ষ্য করে করোনা আক্রান্ত মহিলার ওপর থুতু দেওয়ার ঘটনায় চিকিৎসকদের সংগঠনও সমালোচনায় মুখর হয়েছে৷ ঘটনাটি সভ্যসমাজকে কলঙ্কিত করেছে বলে নেটিজেনরাও সরব হয়েছেন৷ ডাঃ সংগীতা জানিয়েছেন, বাধ্য হয়ে ওই করোনা আক্রান্তদের জি বি কোভিড হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, ওই ঘটনায় আমি মর্মাহত৷

অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টরস্যাসোসিয়েশ (এটিজিডিএ) এক ফেসবুক পোস্টে ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে৷ সংগঠনের বক্তব্য, আমরা ভীষণভাবে হতাশ!! মানুষের মনুষ্যত্ব, বিবেক, বোধ এতই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে যে, কীট, পতঙ্গ, পশু-পাখি আমাদের দেখে ঘৃণা বোধ করে হয়ত৷ আমরা সত্যিই পশুর চেয়ে অনেক নীচে নেমে গেছি৷ যে মানবজাতির মনুষ্যত্ব অনেক আগেই মরে গেছে তাকে করোনা ভাইরাস আর কী মারবে!! কাকে বাঁচানোর জন্য এত আয়োজন, এত দিনরাত পরিশ্রম?!

এটিজিডিএ-র কথায়, শুক্রবার পশ্চিম জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. সংগীতা চক্রবর্তী হাঁপানিয়াস্থিত ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ থেকে করোনা আক্রান্তদের অ্যাম্বুলেন্সে শহিদ ভগৎ সিং যুব আবাসস্থিত কোভিড কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যান৷ স্বাস্থ্য কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে এই পাঁচ রোগীকে ভগৎ সিং সেন্টারের বি-ব্লকে প্রবেশ করতে যাওয়ার সময় ওই সেন্টারের অন্যান্য রোগীরা আপত্তি জানান৷ তাঁরা বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই এই সেন্টারে চিকিৎসাধীন৷ তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলা-পুরুষ বাইরে বেরিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন৷ ওই সকল রোগীদের বক্তব্য, এই ব্লকে আরও রোগী ভরতি করা হলে তাদের থাকতে অসুবিধা হবে৷ তাই, এই ব্লকে কোনও নতুন রোগী ভরতি করা যাবে না৷
সংগঠনের দাবি, ডা. সংগীতা এই সকল রোগীর সাথে কথা বলেন এবং ওই করোনা আক্রান্তদের ভরতি করতে বাধা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন৷ কারণ, তাঁদের অন্যত্র রাখার জায়গা নেই৷ তাতে কয়েকজন করোনা রোগী ডা. সংগীতা চক্রবর্তীকে নানা অশ্লীল, অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিতে শুরু করেন, অভিযোগ এটিজিডিএ-র৷ তাতেও ওই নতুন রোগীদের ভরতির চেষ্টা করা হলে, আচমকা সেই সব করোনা পজিটিভ পুরুষ-মহিলারা ডা. সংগীতার উপর সম্মিলিত ভাবে থুতু নিক্ষেপ করতে থাকেন৷ এ-বিষয়ে এটিজিডিএ-র সাধারণ সম্পাদক ডা. রাজেশ চৌধুরী বলেন, গতকাল রাত ৮টা নাগাদ ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে৷ এধরণের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায়না৷

এ-বিষয়ে ডা. সংগীতা বলেন, শিশু সহ করোনা আক্রান্ত পাঁচ জন্মদাত্রী এবং এক গর্ভবতী মহিলাকে ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভগৎ সিং কোভিড কেয়ার সেন্টারে ভরতির জন্য নেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু, সেখানে ভরতি অন্য করোনা আক্রান্তরা তাতে আপত্তি জানান৷ খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি৷ কিন্তু, তারা আমাকেই অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দেন৷ ডা. সংগীতা বলেন, সদ্যজাত সন্তান নিয়ে জন্মদাত্রীরা এবং পিপিই কিট পরে স্বাস্থ্য কর্মীরা ৫ ঘণ্টা ধরে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন৷ কিন্তু তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না৷ এমনকি, আমাকে লক্ষ্য কর থুতু ফেলা হয়েছে এবং এক যুবক উপর থেকে জল ফেলেছে৷ তিনি বলেন, অবশেষে কোনও উপায় না পেয়ে ওই করোনা আক্রান্তদের জিবি-র কোভিড হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে৷

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এ-ধরনের আচরণ আশা করা যায় না৷ করোনা আক্রান্তদের সেবায় আমরা সকলেই দিনরাত পরিশ্রম করছি৷ ওই ঘটনায় আমি মর্মাহত, বলেন তিনি৷

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *