সন্দীপ / সমীপ, আগরতলা: এইডস্ রোগ নির্মূলে সারা ত্রিপুরায় একযোগে এইচআইভি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নির্দেশে ত্রিপুরাকে এইচআইভি মুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা স্টেট এইডস্ কন্ট্রোল সোসাইটি। তাতে আজ প্রথম দিনে প্রায় ১,৪০০ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্ব এইডস্ দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার ত্রিপুরাকে এইচআইভি মুক্ত রাজ্য গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য তিনি দিশা নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর পরামর্শ ছিল, সারা ত্রিপুরায় মিশন মোডে গণ-পরীক্ষার মাধ্যমে এইডস্ রোগী চিহ্নিত করার ব্যবস্থা হোক। কারণ, যেভাবে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে তাতে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে রোগীদের চিহ্নিত করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর ত্রিপুরা স্টেট এইডস্ কন্ট্রোল সোসাইটি এ-বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে দেয় এবং আজ থেকে আগামী ১ মাসব্যাপী বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন এবং বাস স্ট্যান্ডে এইচআইভি পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। এ-বিষয়ে ত্রিপুরা স্টেট এইডস্ কন্ট্রোল সোসাইটির জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন, আজ ত্রিপুরার ৮-টি জেলায় ১৮টি স্থানে একযোগে সকাল ৯-টা থেকে এইচআইভি পরীক্ষা হয়েছে। তাতে, প্রায় ১,৪০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তাঁর কথায়, এইচআইভি পরীক্ষার ক্ষেত্রে সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে। অন্যান্য রোগের পরীক্ষার মতো সাধারণ প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়। তাই, একেক জনের পরীক্ষায় কিছুটা সময়ের প্রয়োজন পড়েছে। কারণ, তাকে সামগ্রিক বিষয় বুঝিয়েই ওই পরীক্ষার জন্য রাজি করানো হয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামী ১৮ ডিসেম্বর সারা ত্রিপুরায় একযোগে এইচআইভি পরীক্ষা করা হবে। তাতে, সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর কথায়, এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত হলে চিকিত্সার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। তাই, গণ-পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত, এইচআইভি সংক্রমিতের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধির কারণেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।
এই পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের প্রয়োজন হয়। নির্দিষ্ট কিটের সহায়তায় নমুনা সংগ্রহের কিছুক্ষণের ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

