ত্রিপুরায় বরখাস্ত শিক্ষকদের অবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। করোনায় তো এমনি বিপর্যস্ত জনগণের অবস্থা, এর মধ্যে চাকুরিচ্যূত শিক্ষকদের দুর্দশা! ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশেহারা তাঁরা।
বরখাস্ত হওয়া একজন শিক্ষক উত্তম ত্রিপুরা শুক্রবার রাতে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার রাজনগরের বাসিন্দা ছিলেন।
এদিকে, তাঁর স্ত্রী শেফালি ত্রিপুরা উত্তম ত্রিপুরার সাথে নিজের জীবন উত্সর্গ করার চেষ্টা করেন। স্বামীর চিতায় উঠে পড়েন প্রয়াত উত্তমের স্ত্রী।
মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ত্রিপুরা। স্বামীর জন্যে সাজানো চিতায় ঝাঁপ দেন তাঁর স্ত্রী।
উত্তম ত্রিপুরা দুর্ভাগ্যশালী ১০৩২৩ গোষ্ঠীর প্রাথমিক শিক্ষক ছিলেন। চাকুরিচ্যূত অসহায় এই শিক্ষক ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
আত্মহত্যা করা শিক্ষক উত্তম ত্রিপুরার স্ত্রী শেফালি যন্ত্রণায় দিশেহারা হয়ে যান! বছরের শুরুতেই এমন একটা করুণ ঘটনা ঘটে গেল।
স্বামীর জন্যে প্রস্তুত করা শ্মশান কাঠামোর উপর শুয়ে পড়েন ;কাঁদতে কাঁদতে শেফালি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং প্রতিবেশীরা সে কাজ করতে বারণ করেন। কোনমতে আটকান তাঁকে।
উত্তর ত্রিপুরার অভিভাবকরা জানান, দারিদ্র্যতার কারণে উত্তম ত্রিপুরা ‘মধ্যমিক’ পরীক্ষায় পাস করার পরও ছিলেন একজন শ্রমিক।
তবে ২০১৪ সালে তিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি পেয়েছিলেন।
তবে গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর উত্তম আবারও গভীর আর্থিক সংকটে পড়েন। পরিবার চালনার আর কোনও উপায় ছিল না।
তিনি পরিবারের হাল ধরে রাখার জন্যে লোন নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর তো কোন রোজগার নেই। ফলে সেই টাকো পরিশোধ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
শনিবার সকালে তাঁর পরিবারের সদস্য লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর মরদেহ শ্মশানে নেওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী শেফালি তার জীবন (সতী) বলি দেয়ার চেষ্টা করেন।
পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে। রাজ্যে চাকরি হারানো শিক্ষকরা এই ঘটনায় রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
চাকুরি ফিরে পাওয়ার জন্যে তাঁরা ৭ ডিসেম্বর থেকে প্রতিবাদ করছেন।
২৬/২৭ দিন পার হয়ে গিয়েছে, কিন্তু সরকার পক্ষের কেউ তাঁদের সাথে যোগাযোগ করেনি। এতবড় একটি সমস্যাকে কোন সমস্যাই মনে করছে না ত্রিপুরা সরকার।
সরকারী কোন প্রতিনিধি এই শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে এগিয়ে আসেনি। শনিবার চাকরি হারানো শিক্ষকরা উত্তম ত্রিপুরার স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

