শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ১৫, ২০২৬

ত্রিপুরা: বিধায়ক এবং বিজেপি দল থেকে ইস্তফা দিলেন সুদীপ রায় বর্মন এবং আশিষ সাহা

ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: বিধায়ক এবং দলের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুদীপ রায় বর্মণ এবং আশিষ সাহা। সোমবার ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার ক্যাপিটাল কমপ্লেক্সস্থিত বিধানসভা ভবনে গিয়ে অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তীর কাছে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগের আবেদন পেশ করেন। একসঙ্গে সুদীপ রায় বর্মন এবং আশিষ সাহা তাঁদের পদত্যাগপত্র পেশ করেন।

বেরিয়ে আসার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথমে কথা বলেন আশিষ সাহা, তিনি জানান তাঁরা অধ্যক্ষের কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র তুলে দিয়েছেন। অধ্যক্ষ তাঁদের পদত্যাগপত্রটি পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার পর সংবিধানের আইন অনুসারে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এদিন তাঁরা বিজেপি দলের সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন বলেও জানান।

তাঁরা তাঁদের ইস্তফাপত্র ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিধানসভা থেকে বেরিয়ে তাঁরা দিল্লি যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। দিল্লি থেকে ফিরে এসে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগের কারণ এবং বিজেপি দল থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানাবেন বলে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে সুদীপ রায় বর্মন বলেন আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি কারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করছি। মানুষের কষ্ট দুর্দশা আমাদের আর সহ্য হচ্ছিলো না। পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আজ নিজেদের অনেক হালকা মনে হচ্ছে। যারা অস্বীকৃত বিরোধী রাজনৈতিক দল তাঁরা মানুষের স্বার্থে ঠিকমতো ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

এরাজ্যে গণতন্ত্র আজ বিপন্ন, চারিদিকে মানুষের কষ্ট হাহাকার যা আমাদের সহ্য হচ্ছিল না। কারণ এ রাজ্যে এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা কায়েম রয়েছে। নামে মন্ত্রিসভা হলেও এক এক জন মন্ত্রী তাদের অসহায়তার কথা তুলে ধরেন। কারণ হাতেগোনা কয়েকজন সরকারি অফিসার এবং তাদের মুখিয়া যখন যা মনে হচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে। বেকার কৃষক-শ্রমিক সাধারণ মানুষের আর্তনাদ তাদের হৃদয় স্পর্শ করছে না। দলে থেকেও বিধানসভার ভেতরে এবং বাইরে কথা বলতে হয়েছে যার দলের নীতি অনুসারে নয়, বিজেপি থেকে নির্বাচিত হয়েও যদি কিছু না করা যায় তাই মানুষের স্বার্থে দল থেকে পদত্যাগ করে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবে। মানুষের প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নেওয়ার যে ষড়যন্ত্র রাজ্যে তৈরি হয়েছে তা এ রাজ্য থেকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বল এদিন হুংকার দেন তিনি।

সেই সঙ্গে তিনি আরো জানান আগামী শনিবার তাঁরা রাজ্যে ফিরে আসছেন এবং এরপরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবেন। তাঁদের সঙ্গে প্রচুর সংখ্যক নেতাকর্মী রয়েছেন, যারা আর কিছুদিনের মধ্যে প্রকাশ্যে আসছেন বলেও এদিন জানান।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *