ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তির দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম অগ্রণী দেশ ইজরায়েল এবার ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষির উন্নয়নের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত এই দেশটি ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষিতে প্রযুক্তির আরো ব্যাপক ব্যবহারের জন্য সহায়তা করবে। সেইসঙ্গে ত্রিপুরায় দুটি কৃষি উৎকর্ষতা কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করবে।
এই বিষয়গুলি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তিন দিনের সফরে ত্রিপুরা এসেছেন দিল্লিস্থিত ইজরায়েল দূতাবাসের কৃষি বিষয়ক আধিকারিক ইয়ার এসেল। শনিবার তাঁর ত্রিপুরা সফরের দ্বিতীয় দিন। এদিন সকালেই তিনি আগরতলার নাগিছড়া এলাকার রাজ্য সরকারের কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অন্তর্গত উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালিত উদ্যান ও ফল গবেষণা কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেন।
দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তিনি ফল গবেষণা কেন্দ্রের সবজির প্লট, বিভিন্ন ধরনের ফলের প্লটসহ গবেষণা কেন্দ্রের কাজকর্ম ঘুরে দেখেন। তাঁর সঙ্গে রাখা ছোট ছোট কিট দিয়ে সবজি ফলমূল কেটে পরীক্ষা করে দেখেন।পাশাপাশি তিনি ফল এবং বাগানের সেচ ব্যবস্থা, সার প্রয়োগ, পরিচর্যার পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে অবগত হন আধিকারিক এবং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে। এমনকি গবেষণা কেন্দ্রের উৎপাদিত স্ট্রবেরি তিনি খেয়েও দেখেন। দীর্ঘ সময় ধরে পরিদর্শন এবং পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান এখানে যেসব ফল সবজি চাষ করা হচ্ছে এগুলির চাষের পদ্ধতি সঠিক রয়েছে। তবে এখানে প্রযুক্তির ব্যবহার তুলনামূলক অনেক কম। তাই ইজরায়েল ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষিকে আরও উন্নত করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
পাশাপাশি কি করে আরো উন্নত ভাবে সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষ করা যায় তার কিছু উন্নত পদ্ধতিও শিখানো হবে। তিনি আরো জানান তার বিশ্বাস উভয় দেশের যৌথ উদ্যোগে এবং প্রচেষ্টায় ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষিতে আরও ব্যাপক উন্নতি হবে। পাশাপাশি এই উদ্যান গবেষণা কেন্দ্রে ইজরায়েলের সহযোগিতায় সবজির একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন উদ্যান এবং মৃত্তিকা সংরক্ষণ বিভাগের ডিরেক্টর ড: ফনিভূষণ জমাতিয়া, ডেপুটি ডিরেক্টর ড: রাজীব ঘোষ, ডেপুটি ডিরেক্টর ডক্টর দীপক বৈদ্য, কৃষি আধিকারিক রাজশ্রী চক্রবর্তী, সাগরিকা ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য কৃষি আধিকারিকরা।
ড: ফণিভূষণ জমাতিয়া বলেন তিনি ত্রিপুরার কৃষির উন্নতির জন্য অনেকগুলি পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরামর্শগুলি কাজে লাগানো হবে এবং এই পদ্ধতি গুলি রাজ্যের কৃষকদের মধ্যে বিস্তার করার উদ্যোগ নেওয়া। পাশাপাশি তৈদু এলাকার কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ দপ্তরের উদ্যানে লেবুজাতীয় ফলের উৎকর্ষতা কেন্দ্র স্থাপন করার বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা করবে ইজরায়েল বলেও জানিয়েছেন। তিনি রাজ্যের আরো একাধিক জেলায় গিয়ে সবজি এবং ফসলের নানা দিক খতিয়ে দেখবেন। তিনি ভারতের পাশাপাশি শ্রীলংকা নেপাল এবং ভুটানে ইজরায়েলের কৃষিবিষয়ক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন।

