শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ১৫, ২০২৬

ত্রিপুরা রাজ্যে চিকিত্‍সা পরিষেবার উন্নতি, বহিঃরাজ্যে রোগী পাঠানো কমেছে

আগরতলা: ত্রিপুরা থেকে বহিরাজ্যে রোগী পাঠানোর সংখ্যা দিনে দিনেই কমছে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় উন্নতির মাধ্যমে অসম্ভব এখন সম্ভব হচ্ছে। আজ রাজধানীর মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবস অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে দৃঢ় প্রত্যয়ের সুরে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর কথায়, স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি সমস্ত ক্ষেত্রেই উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে স্বয়ম্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে ত্রিপুরা।

এদিন তিনি বলেন, রক্তদান এখন আমাদের রাজ্যে উত্‍সবে পরিণত হয়েছে। ক্লাব, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ রক্তদানে এগিয়ে আসছেন। রক্তদানের মাধ্যমে সংগৃহীত এই রক্ত মুমূর্ষু রোগীদের জীবন রক্ষায় কাজে লাগছে। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজিত হচ্ছে। তবুও এই রক্ত সংগ্রহ পর্যাপ্ত নয়। তাই উচিত রক্তগ্রহীতাদের পরিবার পরিজনদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে রাখা। এজন্য প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত রক্ত অন্যান্য স্থানে প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সাহায্যার্থে পাঠাতে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রয়াস।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে রক্তের চাহিদা মেটাতে দিনপঞ্জির মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সহ অন্যান্য রক্তগ্রহীতাদের পরিজনদের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে রক্তের চাহিদার সামঞ্জস্য রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, একটা সময়ে মুমূর্ষ রোগী বা প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য রাজ্যের বাইরে থেকেও রক্ত আনতে হতো। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জনজাগরণের মাধ্যমে বিভিন্ন বাহিনীর জওয়ান সহ সমস্ত অংশের মানুষকে এই মহত্‍ কাজে আরও উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই সাফল্য মিলবে। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের চাহিদার অতিরিক্ত রক্ত অন্যান্য স্থানে প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতে পারে ত্রিপুরা।

তাঁর দাবি, কার্ডিও, নেফ্রোলজি সহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিত্‍সার পরিষেবা উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণে পরিকল্পনা নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। ইতিমধ্যেই নিউরো সহ বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলতা মিলেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে আপোষহীনভাবে কাজ করে চলেছে সরকার। জিবিপি সহ সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে মানুষের ধারণার বদল এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষা সরকারি হাসপাতাল থেকেই করান। এমনকি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সরকারি হাসপাতালের চিকিত্‍সাই গ্রহণ করেছেন। সাথে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, যদি, কিন্তু, পরন্তু এই শব্দগুলি আমাদের লক্ষ্য অর্জনে মানসিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

তাঁর মতে, এই ধরনের বিরূপ মানসিকতাকে দূরে সরিয়ে মাইক্রো ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে আরও গতি আনা সম্ভব। তার পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন অবস্থায় বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের বিভিন্ন রোগ প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আরও বেশি সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। সঠিক রূপরেখা লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম শর্ত। প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন কোভিড পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ১৮ অনূর্ধ ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন রোগ প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব ও সুস্থ কৈশোর প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য সফলতা মিলেছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৫ দিনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিলো বলেই দ্রুততার সাথে লক্ষ্য পূরণে সফলতা মিলেছে।

এদিন তিনি বলেন, বিগত দিনে উন্নত চিকিত্‍সা পরিষেবার জন্য বহির্রাজ্যে গিয়ে ভালো সংখ্যায় অর্থ ব্যয় করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নয়নের ফলে এর থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন রাজ্যের মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি সমস্ত ক্ষেত্রেই উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে স্বয়ম্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে ত্রিপুরা। এক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতাকে দূরে সরিয়ে নিজের এবং রাজ্যের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা প্রয়োজন। কোভিড আচরণবিধি ও সরকারি নীতি নির্দেশিকা যথাযথ প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে শারদোত্‍সবের আনন্দ উপভোগ করার লক্ষ্যে সমস্ত রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *