শিরোনাম
বুধ. জানু ১৪, ২০২৬

নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত ত্রিপুরা

ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজধানী আগরতলা শহর গোটা রাজ্য অশান্ত হয়ে উঠেছে। ত্রিপুরা রাজ্য জুড়ে দফায় দফায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের জেরে রক্তাক্ত ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিত সিনহাসহ বহু কংগ্রেস কর্মী।

রবিবার ত্রিপুরা রাজ্যের চারটি বিধানসভা আসনের ফল ঘোষণার পর দুপুর বেলা রাজধানী আগরতলা পোস্ট অফিস চৌমুহনী এলাকার ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে একদল দুষ্কৃতী আক্রমণ চালায়। ভবনের সামনে রাখা মোটরবাইক ভেঙ্গে ফেলা হয়। কংগ্রেসের তরফে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল এই মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলে দুষ্কৃতীরা।

পশ্চিম আগরতলা থানার ১০০ মিটারের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। তখন দুষ্কৃতীদের সামনে দাঁড়িয়েছিলো পুলিশ। তারা রীতিমতো নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল, তাদের সামনে দুষ্কৃতির দল একের পর এক মোটরবাইক ভেঙ্গে ফেলে ছোট ছোট দোকানে আক্রমণ চালানো হয়।

কংগ্রেস ভবনের দিকে চলে ঢিল ইটপাটকেল। এর কিছুক্ষণের মধ্যে কংগ্রেস ভবনের দিক থেকেও পাল্টা ইট-পাটকেল আসে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে ইট বৃষ্টি চলে। কিন্তু পুলিশ এই সকল দুষ্কৃতীদের আটকানোর চেষ্টা করেনি। বন্দুকসহ লাঠি নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে এই হামলার দৃশ্য উপভোগ করে। এমনকি দুষ্কৃতীর দল সাংবাদিকদেরকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার এবং এই সকল দৃশ্যধারণ না করার জন্য হুমকি ধমকি দেয়।

কিছুক্ষণ পর কংগ্রেস ভবনের সামনে বিজেপির এক ঝাঁক নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকদের দেখা যায়। এর ফলে এই এলাকায় উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়। এই জায়গা থেকে ভিড় সরাতে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে বাধ্য হয়। এর কিছুক্ষণ পর বিজেপি নেতা এবং মন্ত্রী রতন লাল নাথ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীসহ অন্যান্য আরো বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ পশ্চিম আগরতলা থানায় গিয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেন।

এই সময় মন্ত্রী রতন লাল নাথ পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন তাঁরা চাইলে ৫ মিনিটের মধ্যে ওদেরকে ধরে আনতে পারবেন এমনকি এই কাজে পুলিশের প্রয়োজন হবে না। তাঁর এই আক্রমণাত্মক কথাবার্তা শুনে পুলিশ আধিকারিকরা বলেন তাঁরাই পদক্ষেপ নিচ্ছেন সবাই যেন শান্তি সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখেন। এর কিছুক্ষণ পর সুদীপ রায় বর্মন সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেত্রী বৃন্দ পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবি জানান দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেওয়ার জন্য।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলা শেষে প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন সুদীপ রায় বর্মনসহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ। তখন সুদীপ রায় বর্মন অভিযোগ করেন তিনি গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আসেন। তার পাঁচ মিনিটের মধ্যে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বাইক নিয়ে এসে কংগ্রেস ভবনে ভাঙচুর চালায়। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের আক্রমণের ফলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিত সিনহা মাথায় আঘাত লাগে এবং তার মাথা ফেটে যায়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি রুনু মিয়া নামে এক কংগ্রেস কর্মীকে ছুরি মারে দুষ্কৃতীর দল। এই কর্মী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই দুষ্কৃতির দল আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন।

সুদীপ রায় বর্মন আরো বলেন এই উপনির্বাচনে সাধারণ মানুষ চোখ রাঙ্গানিকে উপেক্ষা করে ভোট দিয়েছেন। জনতার রায় শাসকদল মানতে পারছে না, তাই দুষ্কৃতীদের দিয়ে এই সকল ঘটনা সংঘটিত করছে। তিনি আরো বলেন কোনো সভ্য দেশে এভাবে দিনের বেলা এমন ঘটনা ঘটবে তা ভাবাই যায় না। ত্রিপুরা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর আহবানকে কালিমালিপ্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র করে এইসব করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন সুদীপ রায় বর্মন। তবে এই সকল ঘটনার প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন থাকবে বলে জানান। রাজ্যের মানুষ এক কঠিন পরিস্থিতিতে এসে পড়েছে বলেও জানান। আগরতলার পাশাপাশি তেলিয়ামুড়া খোয়াই কল্যাণপুর কমলাসাগর রাজ্যের প্রতিটি জায়গাতেই কংগ্রেস ভবনের অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *