শিরোনাম
বুধ. জানু ১৪, ২০২৬

বনজ সম্পদ ব্যবহারে জনজাতিদের আর্থ-সামাজিক মান উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

সন্দীপ / সমীপ, আগরতলা: বনজ সম্পদকে ব্যবহার করে জনজাতি অংশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার মান উন্নয়ন এবং বনকে কেন্দ্র করে জনজাতিদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি করার দিশায় বনদফতরকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সোমবার সচিবালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণের অগ্রগতি নিয়ে এক পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তিনি বলেন, বন ও বনজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ওই সব এলাকায় বসবাসরত জনজাতি পরিবারগুলি স্বনির্ভর হতে পারে। এজন্য চেকড্যাম তৈরি করে জনজাতি পরিবারগুলিকে মাছচাষের সাথে যুক্ত করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন কর্মসূচি রাপায়ণে যে ঘাটতি হয়েছে, তা পূরণে এখন দফতরগুলিকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। জাতীয় সড়কের দুপাশে ফুলের গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর দাবি, একবারের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অব্যবহৃত প্লাস্টিক স্থানীয় ভাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারযোগ্য করা উচিত। সে-ক্ষেত্রে একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক যেন পুনরায় ব্যবহার না করা হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুপারি গাছের খোল থেকে থালা তৈরি করা যেতে পারে। এটি পরিবেশ বান্ধব ও এর বাজারজাতকরণের সুযোগ রয়েছে।

আজকের সভায় মুখ্যসচিব মনোজ কুমার বলেন, বনাধিকার আইনে পাট্টাপ্রাপকদের জমিতে বনায়নের মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার জন্য বনদফতরকে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এদিনের সভায় প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক ড. ডি কে শর্মা জানান, চলতি বছরে ৪,৬২৯ হেক্টর এলাকায় নার্সারি গড়ে তোলার কাজ চলছে। তাঁর কথায়, ২০১৯-২০ বছরে ৩,৯৭৭ হেক্টরে নার্সারি গড়ে তোলা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে ৮,৫০০ হেক্টর এলাকায় নার্সারি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

মুখ্য বনসংরক্ষক আরও জানান, চলতি বছরে ১৭০টি চেকড্যাম তৈরি করার কাজ চলছে। গত বছর ১৩৫টি চেকড্যাম তৈরি করা হয়েছে। আগামী বছর ২০০টি চেকড্যাম তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ৪৫০টি চেকড্যামে ২৪ লক্ষ মাছের পোনা বনদফতরের উদ্যোগে ছাড়া হয়েছে। চলতি বছরে আগরতলা-সাব্রুম জাতীয় সড়কের ৯২ কিমি এলাকায় রোড-সাইড প্ল্যান্টেশন করা হয়েছে। মুখ্য বনসংরক্ষক আরও জানান, বনকে কেন্দ্র করে ৩৮,২০৮ জন সরাসরি আয়ের সুযোগ পাবেন। শুধুমাত্র বনদফতরের উদ্যোগে মাছচাষ, কাঠের ব্যবহার, ফুলঝাড়ু, বাঁশ সংগ্রহ, বালি সংগ্রহ, রবার, ইকো-ট্যুরিজম ইত্যাদি ক্ষেত্রে তারা এই সুযোগ পাবেন।

এদিনের সভায় এনার্জি অ্যাফিশিয়েন্সি মেজার্স সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে টিএসইসিএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এমএস কেলে রাজ্যে ১০ শতাংশ বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি জানান, এই ব্যবস্থাদি গ্রহণ করার ফলে রাজ্যে ১০.৮৭ শতাংশ বিদ্যুত্‍ সাশ্রয় করা গেছে। আগামীদিনেও বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ের এই ধারা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কেও তিনি অবহিত করেন। তিনি জানান, ১০০টি বিদ্যালয়ে এলইডি লাইট, টিউবলাইট, ফ্যান লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি বিদ্যালয়গুলিতেও এই কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কেলে আরও জানান, বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ের জন্য আটটি গ্রামকে মডেল এনার্জি অ্যাফিশিয়েন্ট ভিলেজ হিসেবে নেওয়া হবে। এই আটটি গ্রামে ২০ হাজার এলইডি বালব সুলভ মূল্যে গ্রাহকদের দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, আগরতলা পুর নিগম এলাকায় ৩৪,২০০টি এলইডি স্ট্রট লাইট এবং রাজ্যের অন্যান্য পুর এলাকায় মোট ৪১,৬১৫টি এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে। বিদ্যুত্‍ সঞ্চয়ের জন্য সচেতনতা বাড়াতে ১,১০০টি ইকো-ক্লাবকে যুক্ত করে সেমিনার কুইজ ইত্যাদি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

সভায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন সম্পর্কে জানানো হয় যে, রাজ্যে বর্তমানে প্লাস্টিক থেকে বিভিন্ন দ্রব্য উত্‍পাদনের জন্য ২০টি ইউনিট রয়েছে। প্রতিমাসে ৮২৭ মেট্রিকটন প্লাস্টিকের ব্যাগ, ড্রাম, বালতি, খেলনা দড়ি, দরজা, আসবাবপত্র ইত্যাদি দ্রব্য উত্‍পাদন করা হচ্ছে। এ সম্পর্কিত আলোচনায় আরও জানানো হয়, প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের ১৭টি ইউনিট বর্তমানে রাজ্যে রয়েছে। বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় ৪৪৫ মেট্রিকটন অব্যবহৃত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, ধর্মীয়স্থান, পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত করার বিষয়ে এদিনের সভায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সভায় নগর উন্নয়ন দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে পুর এলাকায় কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, আগরতলা পুর নিগম সহ রাজ্যের ২০টি পুর ও নগর এলাকায় মোট ৩১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯৮টি ওয়ার্ডেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাকিগুলিতেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *