ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের নেতৃত্বে তিপরা মথার গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের দাবি এবং ২০১৮ নির্বাচনের পূর্বে বিজেপির ভিশন ডকুমেন্ট, দুটোই সমার্থক। যার ভবিষ্যতে পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, শুধুই ফাঁদে ফেলার চাল। আজ গণমুক্তি পরিষদ এবং ত্রিপুরা যুব ফেডারেশনের রাজভবন অভিযানে পথ সভায় শাসক দল বিজেপি এবং তিপরা মথাকে একই ছাতার তলায় এনে বিঁধেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার।
এদিন বিশাল মিছিল করে উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ এবং ত্রিপুরা যুব ফেডারেশন রাজভবন অভিযানে গিয়েছিল। তাঁদের সার্কিট হাউস এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। সেখানেই অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতারা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।
মানিক সরকার বলেন, ২০১৮ বিধানসভার আগে বিজেপি ২৯৯টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আজ অব্দি একটি প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেনি। তেমনি, তিপরা মথা গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের সুড়সুড়ি দিয়ে জনজাতি ভাবাবেগে জায়গা করতে চাইছে। ওই প্রতিশ্রুতিও পূরণ হবে না। কারণ, দুই দলের মানসিকতা একই।
মানিক বাবু আজকের কর্মসূচীর যৌক্তিকতা রয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন ১১ দফা দাবির সমর্থনে আজকের এই বাঁধ ভাঙ্গা মিছিল প্রমাণ করেছে মানুষের হাহাকার শাসকের কানে পৌছাচ্ছে না। তিনি রেগায় কাজের পরিমাণ কমে গেছে অভিযোগ এনে ত্রিপুরা সরকারকে একহাত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, আজকের মিছিলে উপস্থিত অধিকাংশই রেগার কাজের উপর নির্ভরশীল। অথচ, সময়মতো তাঁরা কাজ পাচ্ছেন না। কাজ পেলে মজুরির জন্য আন্দোলনে নামতে হচ্ছে তাঁদের।তিনি বলেন, মানুষের সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তাঁরা ব্যস্ত শুধুই প্রচারে। তেমনি, রাজ্যের মৌলিক সমস্যা নিয়ে তিপরা মথার মাথা ব্যাথা নেই। তাঁরা শুধুই গ্রেটার তিপরাল্যান্ডের চিত্কার দিয়ে চলেছে। তাঁর দাবি, বামফ্রন্ট সরকার ত্রিপুরার মানুষের মুখে ভাত তুলে দিয়েছিল। বিজেপি সরকার এসে সেই ভাত কেঁড়ে নিচ্ছে। তাই, তাঁদের জবাব দিতে হবে। আজকের মিছিল আগামীদিনের কঠিন লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে, কটাক্ষ করে বলেন তিনি।

