সুদীপ চন্দ্র নাথ, আগরতলা (ত্রিপুরা): হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে এখন পবিত্র রমজান মাস চলছে। এই মাসব্যাপী মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা রোজা পালন করে থাকেন। সারাদিন না খেয়ে সূর্যাস্তের পর নানা রকমের খাবার দিয়ে ইফতার করেন। ইফতারের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে সেমাই দিয়ে তৈরি নানা রকম খাবার। তাই এখন বাজারে সেমাইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে সেমাই তৈরির কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা ব্যাস্ত সময় পার করছেন।
রাজধানী আগরতলা পার্শ্ববর্তী নাগিছড়ার আশ্রমপাড়ার সেমাই এবং পাপড় তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা গেল পুরুষ ও মহিলা শ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত। কেউ মেশিনে সেমাই তৈরি করছেন, আবার কেউবা তৈরি সেমাই শুকানোর জন্য স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখছেন। আবার কেউ সম্পূর্ণভাবে তৈরি করার সেমাই প্যাকেট করছেন।
এই কারখানার মালিক তনয় সাহা বাংলানিউজকে জানান, প্রতিবছর ঈদ এলে সেমাইয়ের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন ১৮ জন শ্রমিক কারখানায় কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন প্রায় ২০০-২৫০ কেজি সেমাই তৈরি করছেন।
আগরতলার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও যাচ্ছে তার কারখানায় তৈরি সেমাই। পাইকারি দরে প্রতি কেজি সেমাই ৬৫রুপি থেকে ৭৫রুপি দামে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন যে পরিমাণ সেমাই উৎপাদন হচ্ছে সবই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। গত ১০বছর ধরে এই কারখানায় সেমাইসহ বিভিন্ন ধরনের পাপড় তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বছরের অন্য সময় রাজ্যে তেমন একটা সেমাইয়ের চাহিদা থাকে না। তখন নানা ধরনের পাপড় তৈরি করা হয়।
কারখানা এক কর্মী জানান বছরের দুই ঈদ এলে সেমাইয়ের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয় ফলে এই সময় তারা অন্যসব সামগ্রী তৈরি বন্ধ রেখে শুধুমাত্র সেমাই তৈরি করেন। এই কারখানার পাশাপাশি অন্য কারখানাগুলোতে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সেমাই তৈরি ব্যস্ততা চরমে।

