আগরতলা:- ত্রিপুরায় নথিভুক্ত বেকার রয়েছেন ১ লক্ষ ৯২ হাজার ২৬২ জন৷ সোমবার শ্রম দফতরের পর্যালোচনা সভায় এই তথ্য উঠে এসেছে৷ সাথে ১১১টি নথিভুক্ত বেসরকারি নিয়োগকর্তা এবং ১৬টি নথিভুক্ত পাবলিক এমপ্লয়ার রয়েছেন বলে শ্রম দফতরের বিশেষ সচিব জানিয়েছেন৷
পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাশনাল ক্যারিয়ার সার্ভিস পোর্টালে নাম নথিবদ্ধ করেছেন এমন চাকরি প্রত্যাশী যারা সরকারি বা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পেয়েছেন তাদের সমস্ত বিবরণ সহ স্ব ঘোষিত ফর্ম পূরণ করে নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে শ্রম দফতরের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়টির উপর গুরুত্ব-আরোপ করেছেন৷ প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি সার্ভের কাজ সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হওয়ায় সন্তোষ ব্যক্ত করেন৷ এই সাফল্যের কৃতিত্ব রাজ্যের সমস্ত কর্মচারীদের বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন৷ পাশাপাশি এ সময়ে তিনি প্রবীণ নাগরিক এবং জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের আরও বেশি করে যত্নে রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷
ন্যাশনাল ক্যারিয়ার সার্ভিস পোর্টালে নথিভুক্ত চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যা হচ্ছে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ২৬২ জন৷ ১১১টি নথিভুক্ত বেসরকারি নিয়োগ কর্তা এবং ১৬টি নথিভুক্ত পাবলিক এমপ্লয়ার রয়েছে৷ তিনি জানান, আগরতলা এবং ধর্মনগরে মডেল ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে৷ কৈলাসহরে নতুন একটি মডেল ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে৷ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে ৯৫টি ক্যারিয়ার সম্পর্কিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ তাতে ১৫,৩৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন৷ ১৮টি ক্যারিয়ার এক্সিবিশন প্রোগ্রামে ২,৪৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন বলে শ্রম দফতরের বিশেষ সচিব জানিয়েছেন৷
পর্যালোচনা সভায় শ্রম দফতরের বিশেষ সচিব অভিষেক চন্দ্র দফতরের বিভিন্ন কর্মসূচি সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন৷ ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের প্রসারে বিভিন্ন শ্রম আইন সংস্কার করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, রাজ্যের শ্রমিকদের কল্যাণে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প, অসংগঠিত শ্রমিক সহায়িকা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মানধন যোজনা, ব্যবসায়ী এবং স্ব উদ্যোগীদের জন্য ন্যাশনাল পেনশন প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে৷ তিনি জানান, ত্রিপুরা বিল্ডিং অ্যান্ড আদার কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কাস ওয়েলফেয়ার বোর্ডের অধীনে ১,০৭,৩১৭ জন নির্মাণ শ্রমিক নথিভুক্ত রয়েছেন৷ তাদের দক্ষতা বিকাশের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট দফতরকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে৷ তিনি জানান, অসংগঠিত শ্রমিক সহায়িকা প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের ৪৬,৫৯০ জন সুবিধাভোগী রয়েছেন৷
বিশেষ সচিব গত ১ বছরের সফলতা তুলে ধরেন৷ তিনি জানান, ১২২টি নতুন ফ্যাক্টরি রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে৷ শ্রমিক সুরক্ষা এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ৩০টি সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়৷ রাজ্যে চলতি অর্থবছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত ইটভাটা, কাঠের মিল, চা কারখানা ইত্যাদি সহ রাজ্যে মোট ৮৭৬টি কারখানা রয়েছে৷ পর্যালোচনা সভায় বিশেষ সচিব কর্মবিনিয়োগ পরিষেবা ও জনশক্তি পরিকল্পনা দফতরের বিভিন্ন কর্মসূচিগুলিও তুলে ধরেন৷ রাজ্যে বর্তমানে ৫টি জেলা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেন্জ চালু রয়েছে। আরও ৩টি নতুন জেলা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেন্জ শীঘ্রই চালু হবে।

