শিরোনাম
বুধ. জানু ১৪, ২০২৬

রোহিঙ্গাদের দেদার অনুপ্রবেশ, বিএসএফ-কে সতর্ক থাকতে বললেন উদ্বিগ্ন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত

সন্দীপ / সমীপ, আগরতলা: পার্বত্য চট্টগ্রাম-ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের ভারতে অনুপ্রবেশ নিয়ে ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক টুইট বার্তায় অসম থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক যুগশঙ্খ’ পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা কট্টরপন্থী মুসলমানরা মায়ানমারে বুদ্ধিস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাঁর কথায়, বাংলা দৈনিক-এর প্রতিবেদন অনুসারে রোহিঙ্গারা পার্বত্য চট্টগ্রাম-ত্রিপুরা সীমান্তের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করছে। তাঁরা সকলেই কট্টরপন্থী মুসলমান যাদের মায়ানমার তাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ তারা বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্যও হুমকি তৈরি করেছিল। এজন্য বিএসএফ-এর অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন তিনি।

রোহিঙ্গারা এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্যও গভীর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার-এর তথ্য অনুসারে, ভারত-বাংলা আন্তর্জাতিক সীমান্তে ১৩০ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে গত ১১ মাসে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৬ জন ভারতীয় এবং ৪৪ বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় মোট ৮৫৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ইন্দো-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। ওই সীমান্ত চারটি সেক্টর সদর দফতরের অধীনে ১৮টি বিএসএফ ব্যাটলিয়ান দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে। ইতিপূর্বেও ত্রিপুরা পুলিশ রোহিঙ্গা আটক করেছে।

গত ২৪ নভেম্বর আগরতলা-নয়াদিল্লি স্পেশাল রাজধানী এক্সপ্রেসের টিকিট পরীক্ষার সময় বদরপুর থেকে ট্রেনে চড়ে আসা ১৪ জন যাত্রীকে কোনও ভারতীয় নাগরিক হওয়ার আইনি দলিল বা পরিচয়পত্র না থাকার দরুন ট্রেন সুপারিন্টেন্ডেন্ট শনাক্ত করেছিলেন। টিকিটের বিশদ তথ্য থেকে জানা যায়, তারা ভুয়ো নাম লিখিয়ে ট্রেনে সফর করছিল।

এছাড়া গত ২৮ নভেম্বর রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) নিউ জলপাইগুড়িতে ১৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সকলেই জানিয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে জিআরপি মামলা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে। আদালত তাদের জেল হেফাজতে পাঠিয়ে দেয়। অন্যদিকে ২৯ নভেম্বর দক্ষিণ অসমের হাইলাকান্দি জেলার আলগাপুরে আট রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজন নাবালক রয়েছে।

এ সমস্ত বিক্ষিপ্ত ঘটনায় তথাগত রায়কে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। কারণ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিশেষ করে অসম এবং ত্রিপুরায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ছেয়ে গেছে। তার মধ্যে রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ নতুন করে চিন্তার বিষয় বলে মনে করা অস্বাভাবিক নয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *