আগরতলা: ২০১৫ সাল থেকে সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি বন্ধ। সুপ্রিম কোর্টে এখনও পদোন্নতি মামলার নিস্পত্তি হয়নি। এরই মাঝে রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা। অ্যাডহক ভিত্তিতে পদোন্নতিতে সিলমোহর পড়ল মন্ত্রিসভার। তাতে সরকারি কর্মচারীরা উত্সাহিত হবেন এবং রাজ্যের উন্নয়নে তাঁরা আরও গভীরভাবে মনোনিবেশ করবেন। শুধু তা-ই নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবেই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বর্ণনা দিলেন আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ। তাঁর দাবি, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্তের কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাডহক পদোন্নতির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গেছে।
আজ তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। কারণ, পদোন্নতিতে সংরক্ষণ মামলা সুপ্রিম কোর্টে এখনও নিস্পত্তি হয়নি। তাঁর কথায়, সরকারি কর্মচারীরা পদোন্নতি না পেয়ে কাজের প্রতি উত্সাহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেকেই পদোন্নতি না হওয়ায় প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরা সরকারের সমস্ত কর্মচারী রাজ্যের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সৈনিক। ফলে তাঁদেরকে বঞ্চিত করে রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেই মনে করে ত্রিপুরা সরকার। তাই ত্রিপুরা সরকার নতুন পদোন্নতি নীতি ২০২১ এনেছে। আজ মন্ত্রিসভা এই নীতিতে অনুমোদন দিয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, নয়া নীতি মেনে সম্পর্ণ অ্যাডহক ভিত্তিতে পদোন্নতি পাবেন সরকারি কর্মচারীরা। তবে ওই পদোন্নতি হবে এককালীন। তাঁর কথায়, একই কর্মচারী প্রাপ্য হলেও একাধিক পদোন্নতির সুবিধা পাবেন না। তবে এসসি, এসটি কিংবা সাধারণ শ্রেণির কর্মচারীদের পদোন্নতিতে ব্যাঘাত ঘটলে অর্থ দফতরের অনুমতি ছাড়াই পরবর্তী পদোন্নতি করতে পারবে সংশ্লিষ্ট দফতর। তিনি জানান, উঁচু পদ থেকে পদোন্নতি দেওয়া শুরু হবে। তাতে দেখা যাবে, প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আইনমন্ত্রীর সাফ জানালেন, এককালীন পদোন্নতি স্থায়ী নয়। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। তবে, কর্মচারীরা এককালীন আর্থিক সমস্ত সুবিধা পাবেন। তাঁর দাবি, দেশে অন্য কোনও রাজ্য এখনও এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এখন ত্রিপুরাকে অনুসরণ করে অনেক রাজ্যেই সরকারি কর্মচারীরা পদোন্নতির সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, সমস্ত আইনি জটিলতা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে অ্যাডভোকেট জেনারেল, আইন, অর্থ, তফশিলি জাতি, তফশিলি জনজাতি দফতরের মতামত নেওয়া হয়েছে। এর পরই মন্ত্রিসভা নয়া পদোন্নতি নীতি প্রণয়নে অনুমোদন দিয়েছে। তিনি জানান, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর আজই মুখ্যসচিব সমস্ত দফতরের সচিবদের সাথে বৈঠক করেছেন। তাঁদের এ-বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

