আগরতলা: কাঠবেড়ালি, পায়রা, শালিক পাখি এখন মানুষ খাবার হিসেবে ব্যবহার করছে। ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলায় বগাফা বন দফতরের অধীনে বেতাগায় বন-জঙ্গলে পশুপাখি শিকারে নেমেছে স্থানীয় কিছু যুবক। তারা প্রতিদিন বনের পশুপাখি মেরে খাবারের খোরাক মেটাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবে ওই সব পাখি এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। অথচ বন দফতরের এ-বিষয়ে কোনও হেলদোল নেই।
স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রতিদিন বেতাগায় কিছু যুবক গুলতি দিয়ে পাখি শিকার করছে। এমনই এক ঘটনায় বুধবার দুই জনজাতি যুবক একটি কাঠবেড়ালি, একটি পায়রা এবং একটি শালিক পাখি শিকার করেছে। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হলেও কিছুই তারা জানাননি। তবে প্রতিদিন ওই জঙ্গলে তারা শিকার করে তা স্বীকার করেছে।
প্রকাশ্য দিবালোকে পশুপাখি শিকারের ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ভীষণ উদ্বিগ্ন। কিন্তু ওই সকল যুবককে পশুপাখি শিকারে বাধা দেওয়ার সাহস কেউ দেখছেন না। পরিচিতি প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক এলাকাবাসী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই কয়েকজন জনজাতি যুবক দিনের বেলায় জঙ্গলের পশুপাখি শিকার করে চলেছে। নিরীহ পশুপাখি শিকার করে ব্যাগে ঢুকিয়ে চলে যায় তারা। তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
এ-বিষয়ে এক জনজাতি যুবক বলেন, মগ পাড়ায় তাদের বসবাস। খাবারের সন্ধানেই তারা পশুপাখি শিকার করেন। প্রতিদিন যা শিকার করা সম্ভব হয়, বাড়ি ফিরে তা-ই তারা আহার হিসেবে গ্রহণ করেন। অবশ্য ওই পশুপাখি কোনও অবৈধ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, দেখে এমনটা মনে হয় না তাদের। কারণ, তাদের ছোঁড়া গুলতির আঘাতে তিনটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। ব্যাগ থেকে বের করে তা দেখিয়েছেও তারা।
তাদের সাথে কথাবার্তায় বোঝা গেছে, প্রতিনিয়ত তারা শিকার করে। অথচ বন দফতরের তাতে কোনও হেলদোল নেই। স্থানীয়দের দাবি, এ-বিষয়ে বন দফতরকে জানানো হয়েছে। অথচ অমানবিক এই সব কাজ বন্ধে কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ওই সব যুবকের সাহস ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
স্বাভাবিকভাবেই, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরেফিরে উঠছে। তবে খাবারের জন্য জঙ্গলের নিরীহ পশুপাখিকেই কেন ওই সব জনজাতি যুবকরা বেছে নিয়েছে, সেই প্রশ্নও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সন্দীপ / এসকেডি

