শিরোনাম
বুধ. জানু ১৪, ২০২৬

ত্রিপুরায় আরও শিথিল বিধিনিষেধ, রি-ওপেনিং গাইডলাইনসহ বিজ্ঞপ্তি জারি

আগরতলা: করোনার আবহে ত্রিপুরায় আরও শিথিল হল বিধিনিষেধ। অবশ্যই, কেন্দ্রীয় সরকার ছাড় দেওয়ায় রাজ্য সরকারও বিধিনিষেধে শিথিল করতে পেরেছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব কন্টেইনমেন্ট জোনের বাইরে আরও কিছু কার্যকলাপ খুলে দেওয়ার জন্য এবং কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন জারি রাখার ব্যাপারে কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির অধীন স্টেট এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মুখ্যসচিব ত্রিপুরাতে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর সময়ের জন্য রি-ওপেনিং গাইডলাইনস – ত্রিপুরা জারি করেছেন। এই নির্দেশিকা কন্টেইনমেন্ট জোনের বাইরে কার্যকর হবে এবং কন্টেইনমেন্ট জোনে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে বলে ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিবের এক আদেশে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন জারি থাকবে এবং জেলাশাসক এই জোনগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। অজ্ঞাত উত্‍স থেকে সংক্রমিত কয়েকটা বাড়ি নিয়ে কন্টেইনমেন্ট জোন থাকবে সেখানে। ওই এলাকায় একমাত্র জরুরি প্রয়োজনীয় কার্যকলাপ চালু থাকবে। কন্টেইনমেন্ট জোনে আসা যাওয়ার যান ও মানুষের চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও পরিষেবা, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ও জীবিকা সংক্রান্ত চলাচল চলবে। কন্টেইনমেন্ট জোনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং পরিষেবা বাড়ি বাড়ি পৌছে দেওয়া যেতে পারে। রোগীদের সংক্রমণের ধারা নির্ণয়, বাড়ি বাড়ি নজরদারি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বশেষ রোগী চিহ্নিত হওয়ার ১৪ দিন পর কন্টেইনমেন্ট জোন অরেঞ্জ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং সর্বশেষ রোগীকে ছুটি দেওয়ার পর কন্টেইনমেন্ট জোনের উপাধি তুলে নেওয়া হবে। শহর ও জেলাকে রোগ মুক্ত বলে ঘোষণা করা হবে একমাত্র সর্বশেষ রোগীর আর টি পি সি আর টেস্ট নেগেটিভ হওয়ার ২৮ দিন পর।

বিজ্ঞপ্তিতে কন্টেইনমেন্ট জোনের বাইরে আনলক নির্দেশিকাও ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে, সমস্ত রকম ব্যবসা বাণিজ্য, দোকান ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলতে পারবে। তবে দোকান, মার্কেট কমপ্লেক্স ও শপিং মলগুলি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খোলা থাকতে পারবে। যেসব দোকানের সামনে এক মিটারের কম প্রশস্ত জায়গা থাকে সেক্ষেত্রে এক সময়ে একজন মাত্র ক্রেতাকে ঢুকতে দেওয়া হবে। যেসব দোকানের সামনে দুই মিটারের বেশি জায়গা থাকবে সেখানে দু’জন ক্রেতা একসাথে ঢুকতে পারবে এবং বাকিরা তার পিছনে এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়াবে। বাজার এলাকা প্রতিদিন স্যানিটাইজ করতে হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

আন্তঃরাজ্য, আন্তঃজেলা এবং জেলার ভিতরে সরকারি ও বেসরকারি যান পরিষেবা চলাচল করতে পারবে। তবে সমস্ত যানবাহনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। গাড়ির চালক, সহকারী ও যাত্রী সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

এছাড়া, সমস্ত সরকারি, স্বশাসিত, সরকারের অধীনস্ত এবং বেসরকারি অফিসগুলি স্বাভাবিক নিয়মে এবং উপস্থিতিতে কাজ করবে। তবে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে। অফিসে নিয়মিতভাবে স্যানিটাইজেশন করতে হবে। অফিসের প্রবেশ ও নির্গমন পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে। যেসব অফিসে নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা রয়েছে তারা মাস্ক ছাড়া কাউকে অফিসে প্রবেশ করতে দেবে না। বাড়তি ভিড় এড়ানোর জন্য বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিরা আগাম সময় চেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে দেখা করতে পারেন। ফোন, হেল্পলাইন, কন্ট্রোল রুম, অনলাইন গ্রিভেন্স সেল ইত্যাদি বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। যদি সরকারি বৈঠক অতি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে তাহলে সেসব বৈঠকে ২০ জনের বেশি লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে, বিদ্যালয়, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার ইত্যাদির জন্য শিক্ষা দফতর আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

এদিকে, ভারত সরকারের নির্দেশিকা মেনে ১৫ অক্টোবর থেকে ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে সিনেমা হল, থিয়েটার, মাল্টিপ্লেক্স গুলো চালু করা যাবে।এমনকি, সুইমিং পুল, প্রদর্শনী, বিনোদন পার্ক ও এ জাতীয় স্থানগুলিও ১৫ অক্টোবর থেকে খুলতে পারবে। পাশাপাশি, সীমিত অংশগ্রহণকারী নিয়ে কিছু অনুমোদিত কার্যকলাপ ছাড়া অডিটোরিয়াম, অ্যাসেম্বলি হল ও এ জাতীয় স্থান বন্ধ থাকবে। সমস্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, খেলাধুলা (বিনোদন) শিক্ষাগত অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য সমাবেশও বন্ধ থাকবে।

তবে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান একমাত্র উপযুক্ত নির্দেশিকা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে করা যাবে।অবশ্য, অপ্রয়োজনীয় সমাবেশ এড়িয়ে চলা দরকার। দাহকার্যে ২০ জনের বেশি এবং বিবাহ অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি লোকের সমাবেশের অনুমতি নেই। স্বাস্থ্য ও রক্তদান শিবির কিংবা কোনও দান ও কল্যাণমূলক কাজে ২০ জনের বেশি লোকের জমায়েত হতে পারবে না।

সারা ত্রিপুরায় ১ অক্টোবর থেকে রাতে কোনও কারফিউ থাকবে না। তবে দুর্গাপূজার সময় রাত্রিবেলা কিছু বিধিনিষেধ থাকবে যার জন্য আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। তাছাড়া, সাধারণ নির্দেশিকা হিসেবে বলা হয়েছে সমস্ত অফিস, পাবলিক প্লেসে থার্মাল স্ক্যানিং, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকবে। এসব জায়গাতে নিয়মিত স্যানিটাইজার করা হবে এবং পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও ভ্রমণকালে মুখাবরণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক। জরুরি প্রয়োজন কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দরকার ছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, অন্যান্য রোগের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি, দুর্বল ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা ও ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরও জানানো হয়েছে যে, মাস্ক না পরিধান করার অপরাধে প্রথমবার ২০০ টাকা এবং পরবর্তী বারগুলিতে ৪০০ টাকা করে জরিমানা হবে। তেমনি সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টিনের নিয়ম উল্লঙ্ঘনের জন্য ১,০০০ টাকা জরিমানা হবে। সন্দীপ/ কাকলি

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *