শিরোনাম
বুধ. জানু ১৪, ২০২৬

ত্রিপুরায় ৮২ শতাংশ সুবিধাভোগীকে প্রকল্পের ই-কার্ড এবং ৭৫ হাজার পেয়েছেন চিকিত্‍সা

সন্দীপ / সমীপ, আগরতলা: আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনায় ত্রিপুরায় ৮২ শতাংশ সুবিধাভোগী প্রকল্পের ই-কার্ড পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৫ হাজার সুবিধাভোগী এই প্রকল্পের আওতায় চিকিত্‍সা লাভ করেছেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেছিলেন। একই দিনে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব রাজ্যে এই যোজনার শুভ সূচনা করেছিলেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনায় রাজ্যের সুবিধা লাভে উপযুক্ত পরিবারের সদস্যদের চিকিত্‍সার জন্য পরিবার পিছু বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস পরিষেবার সুবিধা রয়েছে। ত্রিপুরার প্রায় ৫ লক্ষ পরিবার প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই প্রকল্পের পরিষেবার জন্য ই-কার্ড রাজ্যের সমস্ত তালিকাভুক্ত হাসপাতাল অথবা কমন সার্ভিস সেন্টারগুলিতে করিয়ে নেওয়া যায়।

এর জন্য রাজ্যের নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি, রেশন কার্ড, আধারকার্ড এবং পূর্বের সচল (২০১৬ বা তার পর ইস্যুকৃত) আরএসবিওয়াই কার্ড দেখিয়ে এই প্রকল্পের ই-কার্ড ইস্যু করিয়ে নিতে হবে। এছাড়া, শিশুর জন্মের পর বার্থ সার্টিফিকেট দেখিয়ে এবং বিবাহ সূত্রে নতুন সদস্য পরিবারে যোগ হলে বিবাহ প্রমাণ পত্র দেখিয়ে প্রকল্পের ই-কার্ড ইস্যু করিয়ে নিতে হবে। প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা ই-কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর জানিয়েছে, ত্রিপুরা ও বহিঃরাজ্যের বিভিন্ন তালিকাভুক্ত হাসপাতালে প্রকল্পের সুবিধা উপলব্ধ রয়েছে। এই প্রকল্পে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, লিঙ্গ অথবা বয়সের কোনও সীমা নেই। এই কর্মসূচিতে রাজ্যের ৮৮টি সরকারি হাসপাতাল এবং ২টি বেসরকারি হাসপাতালকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা অন্তর্ভুক্ত রাজ্যের ও বহিঃরাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পরিষেবা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সুবিধাভোগীরা ১,৫৭৩টি চিকিত্‍সাজনিত এবং অস্ত্রোপচারজনিত প্যাকেজের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৪৫৫৫ (ন্যাশনাল) / ১৮০০৩৪৫৩৭৯৭ (ত্রিপুরা) নম্বরে যে কোনও সময় যোগাযোগ করা যাবে বলে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর ৯ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত এই প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেছে। দফতর জানিয়েছে, প্রকল্পের শুরু থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের তালিকাভুক্ত হাসপাতাল এবং কমন সার্ভিস সেন্টার থেকে ১১,৪৪,৫৬১টি গোল্ডেন কার্ড বা ই-কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। ত্রিপুরায় ৮২ শতাংশ সুবিধাভোগী প্রকল্পের ই-কার্ড পেয়েছেন। ইতিমধ্যে ৭৫,৩০৫ জন সুবিধাভোগী এই প্রকল্পে চিকিত্‍সা লাভ করেছেন এবং এর মধ্যে মোট ৩৩৮ জন বহিঃরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে পরিষেবা পেয়েছেন। দফতর জানিয়েছে, এই প্রকল্পে প্রায় ৩৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *