আগরতলা: ত্রিপুরায় সাংবাদিকদের উপর হামলায় ২০২০ সাল থেকে এ বছর ৫ জুন পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে আটটি জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এআইজিপি (আইন-শৃঙ্খলা) সুব্রত চক্রবর্তী এই তথ্য দিয়ে বলেন, এ বছরের ৫ জুন অবধি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের উপর হামলার মোট ২৪টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৬টি মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি) গত কয়েকদিনে সাংবাদিক এবং মিডিয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলি পর্যালোচনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ডিজিপি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা এসপি-দের সাথে বৈঠকে এ জাতীয় সকল মামলার পর্যালোচনা করেন। এসপিদের সাথে আলোচনার সময় দেখা গেছে, ২০২০ সালে ১৭টি এবং ২০২১ সালে সাতটি মামলা নিবন্ধিত হয়েছে, চক্রবর্তী জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নিবন্ধিত ২৪টি মামলার মধ্যে ১৬টি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তিনটি মামলায় নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নিয়েছেন। বাকি পাঁচটি মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। ত্রিপুরা পুলিশ আরও জানিয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় ক্ষতিগ্রস্থরা দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে সক্ষম হননি। কিন্তু পুলিশ তাদের শনাক্ত করার জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা করেছে এবং ফলস্বরূপ ১৫ জনেরও বেশি লোককে চিহ্ণিত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, নিবন্ধিত মামলার তদন্ত পুরোপুরি যোগ্যতা ও প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। ফৌজদারি কার্যবিধির প্রযোজ্য ধারা অনুযায়ী সাত বছরের বেশি শাস্তিপ্রাপ্ত মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মামলার নোটিশও জারি করা হয়েছে।
এআইজি আরও বলেন, মিডিয়ার বিষয়গুলি মোকাবিলার জন্য আলাদা কোনও আইন নেই। সুতরাং এ সমস্ত ক্ষেত্রে আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও সংবাদ মাধ্যমের লোকই মামলার যথাযথ নিবন্ধকরণ বা তদন্ত সম্পর্কে তাঁর কাছে এখনও অভিযোগ করেননি। তাতে স্পষ্ট, অভিযোগকারীরা পুলিশের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। এমন-কি অভিযোগের ক্ষেত্রে যে সব অভিযোগ প্রথম দিকে অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়েছে, আইপিসি বিভাগের আওতায় মামলাগুলি নিবন্ধভুক্ত করা হয়েছে যা অভিযোগের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, বলেন তিনি।

