আগরতলা: ত্রিপুরায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভায় মুলতবি প্রস্তাবের দাবিতে আজ বিরোধীরা প্রচন্ড হৈচৈ করেছেন। কারণ, অধ্যক্ষ বিরোধী দলের বিধায়ক সুধন দাসের আনা মুলতবি প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন। কিন্ত, বিরোধীরা মুলতবি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় বারবার চাপ দেন। এক সময় বিরোধীরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। কিন্ত, অধ্যক্ষ তাঁদের আবেদনে সম্মতি দেননি। বরং একই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বিবৃতি দেবেন। তাই, মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দেওয়ার পর বিরোধীরা আলোচনা করতে পারবেন বলে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। কিন্ত, অধ্যক্ষের ওই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে বিরোধীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হন। বিরোধীদের হৈ হট্টগোলের মাঝেই অধ্যক্ষ বিধানসভার পরবর্তী কার্যসুচি প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু দেন। তাই, প্রতিবাদে তাঁরা অধিবেশন বয়কট করে বেরিয়ে যান। অধিবেশনের প্রথমার্ধ সমাপ্ত হওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনেছেন এবং সমগ্র অধিবেশন বয়কটের সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছেন।
ত্রিপুরার দ্বাদশ বিধানসভার দশম অধিবেশনের আজ ছিল প্রথম দিন। আজ সভার শুরুতেই অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। তারপর যথারীতি অধ্যক্ষ সভার পরবর্তী কার্যসূচী শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নেন। তখনই বিরোধী দলের সদস্য ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব খারিজ করার কারণ জানতে চান। অধ্যক্ষ তাঁকে সাফ জানান, নির্দিষ্ট আইন মেনেই মুলতবি প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে। কারণ, আজ একই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বিবৃতি দেবেন। তাই, একই বিষয়ে দুইবার আলোচনার সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, বলেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রস্তাব, মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দেওয়ার পর আপনারাও আলোচনা করতে পারবেন। এখন অযথা সময় নষ্ট করার যৌক্তিকতা নেই।
কিন্ত, অধ্যক্ষের প্রস্তাবে আশ্বস্ত হননি বিরোধী দলের সদসরা। বিধায়ক সুধন দাস বলেন, ত্রিপুরায় আইনগ-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পুর্ন ভেঙ্গে পড়েছে। বিরোধী দলের কর্মী থেকে শুরু করে নেতারা ক্রমাগত আক্রমনের শিকার হচ্ছেন। পার্টি অফিস ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, পত্রিকা অফিসেও হামলা হয়েছে। সুধন বাবু, বিরোধীদের উপর সংগঠিত সন্ত্রাসের ভয়াবহতা প্রমানে রক্তে ভেজা একটি শার্ট বিধানসভায় তুলে ধরেন। আক্রান্ত হওয়ার পর ওই শার্ট রক্তে ভিজেছে, বিধানসভায় তা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্ত অধ্যক্ষ তাঁদের আশ্বস্ত করেন, মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দেওয়ার পর এ-সমস্ত বিষয় তোলে ধরে আলোচনায় অংশ নিন। তিনি বিরোধীদের কাছে বিধানসভা পরিচালনায় সহযোগিতা চেয়ে আপাতত প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করার অনুরোধ জানান।
এদিকে, বিরোধীরাও নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিরোধীদের শ্লোগানে বিধানসভায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। অধ্যক্ষও বিরোধীদের বিক্ষোভের মাঝেই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করে দেন। তাই, প্রতিবাদে বিরোধীরা বিধানসভা অধিবেশন বয়কট করে বেরিয়ে যান। এদিন, অধিবেশনের প্রথমার্ধ সমাপ্ত হওয়ার পর বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনেছেন। সাথে তিনি ঘোষণা দেন, বিরোধীরা সমগ্র অধিবেশন বয়কট করেছেন।
এদিন বিরোধী দলনেতা বলেন, আজ মুলতবি প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু ছিল ত্রিপুরায় আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি। বিরোধীদের উপর আক্রমণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি, বিরোধী দলের অফিস লাগাতর আক্রান্ত হচ্ছে। তাই, আজ বিধানসভায় সমস্ত কার্যসুচি স্থগিত রেখে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হউক আমরা চেয়েছিলাম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিধানসভার অধ্যক্ষ নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে পারলেন না। তিনি কার্যত ট্রেজারি বেঞ্চের সহায়তা করলেন। মানিক বাবু কটাক্ষের সুরে বলেন, অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়ে শাসক ও বিরোধী উভয় দলকে সমান অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। আদৌ সেই দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন তার আত্মসমীক্ষা করা উচিত অধ্যক্ষের। তাই, বিধানসভায় বসে না থেকে বয়কট করে বেরিয়ে এসেছি আমরা, বলেন বিরোধী দলনেতা।

