আঁচটা পাওয়া গেছিল সকাল থেকেই। গণনা শুরু হওয়ার পর। পরবর্তী সময়ে রাউন্ড যত গড়িয়েছে ততই ছবিটা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জিতছে তৃণমূল বা বলা ভালো জিতছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। একেবারে হুড়হুড় করে ওপর দিকে উঠছে তৃণমূল নেত্রীর জয়ের গ্রাফ। জয়ের গন্ধটা ততক্ষণে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতো ত্রিপুরার নেতা-কর্মীদেরও নাকে ঢুকে গেছে। অল্প অল্প রাস্তাতেও বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন তাঁরা। অবশেষে ঘোষণা এবং আগরতলা সহ গোটা রাজ্যে জায়গায় জায়গায় রাস্তা ঢেকে গেল সবুজ আবিরে। মহালয়া না হতেই যেন দুর্গোত্সবের অকাল বোধন হয়ে গেল ত্রিপুরায়। রাস্তায় রাস্তায় হাতে হাতে মিষ্টির থালা। মমতার জয়ের স্বাদ নিলেন ত্রিপুরাবাসী।
পাশের রাজ্য ত্রিপুরার রাজনীতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই জয়? ত্রিপুরার তৃণমূল সভাপতি আশিসলাল সিং বলেন, ‘একটা জিনিস ভুলে গেলে চলবে না। গোটা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরার মানুষও তাকিয়ে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিকে। বিশেষত ত্রিপুরায় আমাদের রাজনৈতিক লড়াই যত বেশি শক্তিশালী হচ্ছে শাসকদলের পক্ষ থেকে তত বেশি আঘাত আসছে। সেই সব বাধাবিপত্তি অগ্রাহ্য করেই কিন্তু আমাদের নেতা-কর্মীরা অভিষেক ব্যানার্জির নেতৃত্বে সংগঠন গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্দোলনটাকে আরও জনমুখী করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। জায়গায় জায়গায় আমাদের দলীয় কার্যালয় তৈরি হচ্ছে। ছাত্র-যুবরা আরও বেশি করে আমাদের সঙ্গে আসছেন। আর যদি শুধু ভবানীপুর কেন্দ্রের কথা বলতে হয় তাহলে দেখা যাবে সেখানে সর্বশক্তি দিয়ে বিজেপি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাদের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। কিন্তু সমস্ত কিছু দূরে সরিয়েই কিন্তু মমতা জয়লাভ করেছেন এবং সেটাও একটা বিপুল মার্জিনে। যেটা গোটা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজনীতিতে খুবই তাত্পর্যপূর্ণ। শনিবারের পর এটা অন্তত সকলের কাছেই পরিস্কার, গোটা দেশে যদি কেউ বিজেপিকে টক্কর দিতে পারেন, তবে সেই নামটা কিন্তু মমতা ব্যানার্জি।’
এখনও পর্যন্ত দিন ঠিক না হলেও ত্রিপুরা তৃণমূলের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে সেখানে যেতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। সভাপতির কথায়, ‘এখানে এলে দেখা যাবে পাহাড় থেকে সমতল এবং গ্রাম থেকে শহর, সব জায়গাতেই আজ বিজয়োল্লাস। ত্রিপুরাবাসী মমতাকে আপন করে নিয়েছেন। তাঁর আসার অপেক্ষায় আছেন। শনিবারের এই জয় এ রাজ্যে শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদেরকে উত্সাহিত করে আরও বেশি সংগঠনমুখীই করল না, জায়গায় জায়গায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের তাঁদের দলীয় পতাকাটাকে গর্বের সঙ্গে আরও উঁচু করে তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করল।’

