শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ১৫, ২০২৬

ক্যাটাগরি ভিত্তিক কাগজে বিজ্ঞাপন বন্টনে বৈষম্য করা যাবে না, ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দেশ

আগরতলা: ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন নীতি ২০২১ সম্পূর্ণ সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোন সংবাদপত্রকে বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন নীতির প্রসঙ্গে আজ রাজ্যের তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর কাছে দাবী পেশ করে ত্রিপুরা নিউজপেপার সোসাইটি। সোসাইটির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বেশ কিছু দাবী মন্ত্রীর কাছে তোলা হয়। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের তথ্য সংসৃকতি অধিকার থেকে একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হয়। এই প্রেস রিলিজটি হুবহু তুলে ধরা হল।

”রাজ্যের সংবাদপত্রের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আজ বিকেলে সচিবালয়ে তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী সুুশান্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করেন ত্রিপুরা নিউজ পেপারর্স সোসাইটির ছয় সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংবাদিক অরুন নাথ, জয়ন্ত দেবনাথ, রঘুনাথ সরকার, অভিষেক দে, রাজীব রায়, অনির্বান দেবনাথ। বৈঠকে তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েলও উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দপূর্ন পরিবেশে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

ত্রিপুরা নিউজ পেপারর্স সোসাইটির পক্ষ থেকে তথ্য ও সংসৃকতির মন্ত্রীর কাছে একটি দাবিপত্র পেশ করা হয়। ত্রিপুরা নিউজ পেপারর্স সোসাইটির পক্ষ থেকে তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রীর কাছে পেশ করা দাবি সমূহে রয়েছে বিজ্ঞাপন নীতি,২০২১ সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত ২০০৯ সালের বিজ্ঞাপন নীতি চালু রাখা, বিজ্ঞাপন নীতি ২০২১ চুড়ান্ত হওয়া সাপেক্ষে নতুন কোন সংবাদপত্রকে বিজ্ঞাপন দেবার চলতি প্রবণতা বন্ধ করতে হবে, সংবাদমাধ্যমে/সংবাদপত্র সংক্রান্ত সমস্ত কমিটিতে সোসাইটির প্রতিনিধি রাখতে হবে এবং এই প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্ব সোসাইটিকে দিতে হবে, ২০০৯ সালের বিজ্ঞাপন পলিসি অনুযায়ী একটি ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপন পাঁচটি সংবাদপত্রকে দেবার রীতি রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২১ এই সময়ের মধ্যে সংবাদপত্রের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দাবী পাঁচটি পত্রিকার পরিবর্তে আটটি সংবাদপত্রকে বিজ্ঞাপন দেওয়া, ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন দেবার ক্ষেত্রে কোনপ্রকার সুুষ্ঠ নীতি নেই। তাই দাবী-ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন ক্লাসিফায়েডের মত ৮টি সংবাদপত্রকে দেওয়া, বিজ্ঞাপন বন্টনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। তিনমাস অন্তর অন্তর বিজ্ঞাপন বিতরণের স্টেটমেন্ট প্রকাশ করতে হবে। তাছাড়া, ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে ক্যাটাগরি ভিত্তিক কাগজে বিজ্ঞাপন বন্টনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার বৈষম্য করা যাবে না, বিজ্ঞাপনের মূল্যহার নূ্যনতম ২০০ টাকা প্রতি কলাম সেন্টিমিটার করতে হবে। পূর্বতন চুক্তি অনুযায়ী প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বি’াপনের বিল পেমেন্ট করতে হবে, রাজ্য সরকারের তথ্য কেন্দ্রগুলিতে পুনরায় পত্রিকা সরবরাহ করতে হবে, ক্যাবল চ্যানেল-এর জন্য পৃথক বিজ্ঞাপন বাজেট তৈরি করা।

তথ্য ও সংসৃকতি দপ্তরের সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েলের উপস্থিতিতে তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী প্রতিনিধিদলটির দাবিগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করেন এবং ত্রিপুরা নিউজ পেপারর্স সোসাইটির প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার সাংবাদিক বান্ধব। আগামী দিনে সাংবাদিকদের স্বার্থে এবং তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।”

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *