শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ১৫, ২০২৬

দেশের বর্তমান সরকার কর্পোরেটদের স্বার্থে কাজ করছে: ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার

ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার ৭৫ বছর হয়ে গেলেও ভারতবর্ষের অবস্থা এখনো উন্নতি হয়নি বরং গত ১০বছরে এই অবস্থা আর নিচের দিকে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন সংস্থার সার্ভে রিপোর্টে এই তথ্য উঠে আসছে। ভারতের অন্যতম মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৬তম জন্ম দিন উপলক্ষ্যে রবিবার বামফ্রন্ট সমর্থিত যুব সংগঠন ডি ওয়াই এফ আই’র উদ্যোগে এক রক্ষদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।

আগরতলায় আয়োজিত এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দল নেতা মানিক সরকার। এই শিবিরে তিনি নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন মাত্র চার থেকে পাঁচ জন ব্যক্তির অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন ভাল হচ্ছে। এদের মধ্যে দুই একজন প্রধানমন্ত্রী খুব কাছের বন্ধু, এই বিষয় গুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

দেশে সব চেয়ে বেশি মধ্যবিত্ত অংশের মানুষের সংখ্যা, এই পরিস্থিতিতে তাদের সংখ্যা কমছে এবং তারা আরো নিচে নেমে দরিদ্র মানুষের স্তরে চলে যাচ্ছেন। এর অর্থ হচ্ছে আয় উপার্জন নেই। এই পরিস্থিতি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্য ছিল না। রাজনৈতিক দিক থেকে স্বাধীনতা অর্জন করলেও সেই অর্থে অর্থনৈতিক দিক থেকে মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেনি। যতক্ষণ পর্যন্ত এই অসাম্য থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই স্বাধীনতা সঙ্গতিহীন থেকে যাবে।

সুভাষ বসুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের যুব সমাজের প্রতি আহ্বান ক্ষুধা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আর জোরদার লড়াই করতে হবে, মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। মানুষ লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন, একতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মানুষদের একতা ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য বর্তমান শাসক গোষ্ঠি চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জন্য ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের কথা বলে মানুষদের আলাদা করে রাখার কাজ জারি রেখেছে। ফ্যাসিবাদী চিন্তা ভাবনা নিয়ে চলা আর এস এস বিজেপিকে পরিচালিত করছে এবং এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশী-বিদেশী কর্পোরেটদের স্বার্থ রক্ষ্য করা। তিনি বলেন নেতাজীর আদর্শকে মনে রেখে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে করো মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করতে তারা দেবেন না। তিনি যে আজাদহিন্দ বাহিনী তৈরি করে ছিলেন তাতে সব ধর্মের মানুষদের রেখে ছিলেন। সেই স্বপ্ন ও ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে হলে ধর্ম বর্ণের ঐক্যের ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে, যদি তা না করা যায় তবে লড়াই দূর্বল হয়ে পড়বে।

তাই দেশের যুব সমাজকে এই বিষয় গুলির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ভাষণ হচ্ছে, প্রচার আর বিজ্ঞাপন চলছে। কেন্দ্রের বিজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি, রাজ্যের বিজ্ঞাপনে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আর কিছু নেই। যা বলছেন তারা তা কাজে পরিণত হচ্ছে না। ফলে কোভিডের দুই বছরে সমস্যা গভীর হচ্ছে কিন্তু কাজ কিছুই হচ্ছে না। মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কি হবে? কি হবে এই ভেবে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী দিল্লী থেকে ভার্চুয়ালি সভা করে মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও জেলা স্তরের অফিসারদের সঙ্গে কথা শুধু পরামর্শ দিচ্ছেন।

কিন্তু এই পরিস্থিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা আর বৃদ্ধি করার প্রয়োজন কিন্তু পরিষেবার বিষয়গুলি বেসরকারী হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আর তারা দুই হাতে লুট করছে। সাধারণ মানুষ খুব বিপদে রয়েছেন এই পরিস্থিতিতে মানুষ আওয়াজ তুলতে শুরু করেছেন এই সরকারকে হঠাৎ এবং মানুষদের বাঁচাও। শুধুমাত্র বিরোধী দলের সদস্যরাই নয় শাসকদলের সাধারণ সমর্থকরাও এই দাবী তুলেছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *