শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ১৫, ২০২৬

কেন্দ্র সরকারের প্রতিবাদ জানিয়ে ত্রিপুরা জুড়ে পালিত বিশ্বাসঘাতকতা দিবস

ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: সোমবার সংযুক্ত কিষান মোর্চা সারা দেশব্যাপি বিশ্বাসঘাতকতা দিবস পালন করছে। এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত কিষান মোর্চা ত্রিপুরা রাজ্য কমিটিও এই দিনটি পালন করে।আগরতলার মেলারমাঠ এলাকার সভার ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির অফিসের হল ঘরের ভেতর এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত কিষান মোর্চার ত্রিপুরা রাজ্য কমাটির আহ্বায়ক পবিত্র কর, সিপিআইএম দলের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক জীতেন চৌধুরী, সিপিআইএম দলের নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অঘোর দেববর্মা, বামফ্রন্ট নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জয় গোবিন্দ দেব রায়, জনজাতি নেতা রাধাচরণ দেববর্মা প্রমুখ। এদিন এই কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা গলায় প্রতিবাদ সম্বলিত প্লেকার্ড ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হন। সংযুক্ত কিষান মোর্চার ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির আহ্বায়ক পবিত্র কর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সব ধরনের রক্তচক্ষু এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনকে উপেক্ষা করে এক বছর ধরে কৃষকরা রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে ছিলেন। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মাথায় নিয়ে পুলিশের আক্রমণ সহ্য করে, গুন্ডাদের আক্রমণ উপেক্ষা করে প্রাথমিকভাবে জয়লাভ করেছে।

আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী বলতে বাধ্য হন তিনটি কৃষি বিল প্রত্যাহার করা হবে। তখন সংযুক্ত মোর্চার তরফের দাবি জানানো হয়েছিল সংসদ থেকে এই বিলের বাতিল ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছিলেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সারা ভারতে প্রায় চার হাজারের বেশি কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। কৃষক আন্দোলন চলাকালীন সময় প্রায় সাড়ে সাতশ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে, মৃত এইসকল কৃষকের পরিবারের ন্যূনতম একটি করে সরকারি চাকরি দিতে হবে।

বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার করতে হবে, আন্দোলনের সময় যেসকল কৃষকদের উপর মামলা করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে যেসব কৃষককে গাড়ীর চাকায় পিষে মারা হয়েছে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, এবং এই ঘটনার ষড়যন্ত্রকারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহার করার সময় সরকার লিখিতভাবে জানিয়েছিল কৃষকদের এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে কিন্তু পরবর্তী সময় কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি গুলি পূরণ করেনি। তাই বিশ্বাসঘাতকতা দিবস পালন করা হচ্ছে সারা দেশ জুড়ে বলে জানিয়েছেন।

সারাদেশের পাঁচশোর বেশি জায়গায় এই আন্দোলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।অপরদিকে সিপিআইএম দলের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক জীতেন চৌধুরী বলেন এই কর্মসূচিতে রাস্তায় করার কথা থাকলেও পুলিশের বাধার কারণে ঘরের মধ্যে করতে হচ্ছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা রাজ্যের সকল স্তরের মানুষের কাছে এই কর্মসূচি তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী কৃষকের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা খেলাপ করেছেন তাই কৃষকরা বাধ্য হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা দিবস পালন করছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *