শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ১৫, ২০২৬

ত্রিপুরা বাংলাদেশ সীমান্তে তৃতীয় বর্ডার হাটের শিলান্যাস

ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার ধলাই জেলার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে বর্ডার হাটের শিলান্যাস হল বৃহস্পতিবার। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, রাজ্য সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব, ত্রিপুরার শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান টিংকু রায়, ঢাকাস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের তরফে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এবং এমপি মো: আব্দুল সাহিদ প্রমুখ।

প্রথমে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রস্তাবিত বর্ডার হাটে শিলান্যাস করেন। এরপর স্থানীয় স্কুল মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন – বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক প্রথমত হৃদয়ের এরপর সংস্কৃতির এবং পরবর্তীতে এটি বাণিজ্যিক সম্পর্কে উন্নীত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ত্রিপুরাবাসীকে খুব ভালবাসেন, তাই যখনই যা কিছু চাওয়া হয় তখন তা দিয়েছেন। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিপুরাবাসীকে পছন্দ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিপ্লব কুমার দেব শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ২০মিনিট কথা বলেছেন। তিনি সেদিন যে সব পরামর্শ দিয়েছিলেন তা মেনে চলার চেষ্টা করেন। মৈত্রীর ভাবনা ও আত্মীয়তার জন্য ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ত্রিপুরায় জলপথ ছিল না, পাকিস্তান হওয়ার পর চট্টগ্রাম পাকিস্তানে চলে যায়। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা এসে এটি ত্রিপুরার জন্য খুলে দেন। অনেকে ভারত-বাংলার সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় কিন্তু তা কেউ নষ্ট করতে পারবে না। ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরে আর একটি বিমান বন্দর হবে। এর জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে কথা চলছে। পাশাপাশি তিনি আরো জানান ত্রিপুরা রাজ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরো তিনটি বর্ডার হাট খুব দ্রুত চালু হবে।

অপরদিকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেন এই বর্ডার হাট গুলি শুধুমাত্র বেচাকেনা জন্য নয়, বর্ডার হাট আত্মার মেল বন্ধন ঘটায়। মৈত্রীর সম্পর্কের জন্য ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে বলেছেন বিপ্লব কুমার দেব উনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁকে তিনি স্নেহ করেন। শেখ হাসিনা আরো বলেছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রকল্পগুলি চালু করা যায় এদিকে নজর দেওয়ার জন্য।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন – মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে যত মানুষ ভারতে এসে ছিল তার ৮০শতাংশ ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে। সেই সময়ে ত্রিপুরা রাজ্যের মানুষের উদার মনোভাবের জন্য তিনি আবারও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এই বর্ডার হাট নির্মাণের জন্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৫,৩০,১২,৩২৩টাকা। এটি রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার দূরে। বর্তমানে ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশ সীমান্তে ২টি সীমান্ত হাট চালু রয়েছে এবং ভারত- বাংলাদেশের মধ্যে মোট চারটি সীমান্ত হাট চালু রয়েছে। বাকি দুটির মধ্যে একটি মেঘালয় বাংলাদেশ সীমান্তে এবং অপরটি পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ সীমান্তে।

এই হাটগুলোতে মূলত ভারত এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা স্থানীয় এলাকার উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বিক্রি করেন। উভয় দেশের ক্রেতারা এই হাটে গিয়ে সামগ্রী কেনাকাটা করতে পারেন। এসকল সীমান্ত হাটে ভারতীয় অংশের লোকজন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জ্যান্ত মাছ শুটকি ফলমূল ইত্যাদি সামগ্রী খুব আগ্রহ সহকারে কেনাকাটা করে থাকেন। অপরদিকে বাংলাদেশের ক্রেতারা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কসমেটিক প্রসাধনসামগ্রী ইত্যাদি কেনাকাটা করে থাকতেন। এছাড়াও উভয় দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে দেখা করার একটি জায়গা হয়ে উঠেছিল সীমান্ত হাট। মূলত যেসকল লোকেদের পাসপোর্ট নেই এমন লোকজন অন্য দেশে স্থায়ী ভাবে বসবাসকারী আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সীমান্ত হাটে চলে যেতেন। তবে বর্তমানে করোনা মহামারীর কারণে আপাতত সীমান্ত হাট বন্ধ রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *