শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ১৫, ২০২৬

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের পদত্যাগ, নতুন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতে আরও ১০ মাস বাকি। আগামী বছরই ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগেই আজ শনিবার হঠাৎ ত্রিপুরা রাজ্যের বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব পদত্যাগ করলেন। বিপ্লব দেব ২০১৮ সালে তৎকালীন বামফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে হটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। মানিক সরকার একটানা মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন ২০ বছর।

কিন্তু হঠাৎ কেন আজ পদত্যাগ করলেন বিপ্লব দেব? রাজনৈতিক মহলের খবর, বিপ্লব মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিভিন্ন সময় বেফাঁস মন্তব্য করে দলের বিরাগভাজন হন। দল এটা চাইছিল না। এদিকে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন এসে পড়ায় দল মনে করছে, বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া জোরদার হলে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সম্ভব হবে না। বরং তাতে ক্ষতি হবে বিজেপিরই। তাই বিজেপি চাইছে না বিপ্লবকে আগামী বছরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে রেখে নির্বাচনে লড়তে। এতে কার্যত ক্ষতির মুখে পড়বে বিজেপি। তাই নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া হলো বিপ্লব দেবকে।

বিপ্লবের পর বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজেপির ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক মানিক সাহা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব তাঁর পদে ইস্তফার পর বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে মানিক সাহাকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

বিপ্লব দেব বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে আজ শনিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে দলীয় স্তরে বহু অভিযোগ আসায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়। তাঁর পদত্যাগের পর রাজ্য বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠক বসে। সেখানে মানিক সাহাকে ত্রিপুরার ১১তম মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের সুপারিশ করে। মানিক সাহার বয়স ৬৯ বছর।

মানিক সাহা বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির সভাপতি। এ ছাড়া তিনি এই রাজ্য থেকে ভারতের রাজ্যসভার সাংসদও। ৩ এপ্রিল মানিক সাহাকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।

মানিক সাহা পেশায় দন্তচিকিৎসক। তিনি ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের দন্ত বিভাগের প্রধান ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও। ২০১৬ সালে মানিক সাহা কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ত্রিপুরার কোনো একটি বিধানসভা আসন থেকে বিধায়ক হয়ে আসতে হবে। ত্রিপুরা বিধানসভার পরবর্তী নির্বাচন আগামী বছর।

এদিকে ইস্তফা দিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেছেন, ‘আমি বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী। দল, রাজ্য বিজেপি আমাকে যেভাবে নির্দেশ দেবে, সেভাবে আমি দলের জন্য কাজ করে যাব। আমার লক্ষ্য হবে ত্রিপুরায় বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করা।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *