ত্রিপুরা নিউজ ডেস্ক: অবশেষে আগরতলা কলকাতা ভায়া ঢাকা বাস সার্ভিস পুনরায় চালু হলো। শুক্রবার আগরতলার আখাউড়া ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট প্রাঙ্গণে এক আনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বাস পরিষেবা চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের পরিবহন এবং পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী প্রনজিত সিংহ রায়, আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ, সহকারী হাইকমিশনের প্রথম সচিব রেজাউল হক চৌধুরী, ত্রিপুরা সরকারের সড়ক পরিবহন নিগমের তথা টি আর টি সি’র সচিব এল এস ডার্লং, টিআরটিসি’র ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রাজেশ দাস, আগরতলার আখাউড়া ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের ম্যানেজার দেবাশিস নন্দি সহ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিপুরা সরকারের পরিবহন এবং পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন এই বাস সার্ভিস আগেও ছিল মধ্যে করোনা মহামারীর কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। তবে এই বাস পরিষেবাকে ঘিরে ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। এই বাস পরিষেবার ফলে খুব দ্রুত আগরতলা থেকে ঢাকা এবং কলকাতাতে যাওয়া সম্ভব। সেই সঙ্গে তিনি আশা ব্যক্ত করেন সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি খুব দ্রুত বিমান পরিষেবা রেল পরিষেবা এবং নৌ-পরিবহন পরিষেবায় ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশ সরাসরি যুক্ত হবে।
তিনি আরো বলেন শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন এই বাস চলবে। তিনি আরো বলেন ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে দুই দেশের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও এই সম্পর্ক অটুট। অপরদিকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ বলেন, এই বাস পরিষেবা হচ্ছে উভয় দেশের মৈত্রীর প্রতীক।
বহু পরিশ্রমের ফলে এই পরিষেবা আবার চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে ত্রিপুরা রাজ্যের মানুষ খুব সহজে এবং কম সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের আত্মীয় পরিজন এবং ভারতের কলকাতা সহ অন্যান্য প্রান্তে যোগাযোগ করতে পারবেন। এই জন্য তিনি ত্রিপুরা সরকার বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকারকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
একইভাবে ঢাকা থেকে বাংলাদেশের বিআরটিসি’র একটি বাস কলকাতায় যাবে এবং কলকাতাতে পৌঁছানোর পর আগামী ১২জুন আগরতলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে। অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে উপস্থিত অতিথিরা সবুজ পতাকা নেড়ে বাসের শুভ যাত্রা করান। ৪০ আসনবিশিষ্ট বাসের প্রথম দিন ২৮ জন যাত্রী রয়েছেন এর মধ্যে ২২ জন ভারতীয় এবং ৬ জন বাংলাদেশের।

